রাজ্য রাজনীতিতে এবার এক মহাসংকট ও বড়সড় পটপরিবর্তন। বিধানসভায় ‘আসল তৃণমূল’ গঠনকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক ডামাডোলের মাঝেই এক ঐতিহাসিক ও আকস্মিক সিদ্ধান্ত নিলেন ফিরহাদ হাকিম (ববি)। কলকাতা পুরসভা (Kolkata Municipal Corporation)-র মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিলেন তিনি। বুধবার তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে গিয়ে ‘সম্মানের সঙ্গে নিষ্কৃতি’ চান ববি এবং তৃণমূলনেত্রীও তাঁর সেই পদত্যাগপত্রে সম্মতি বা অনুমতি দিয়েছেন।
তবে এই ইস্তফাপত্র জমা দেওয়ার আগে এদিন নবান্নে গিয়ে রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে ফিরহাদ হাকিমের এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের জল্পনা উস্কে দিয়েছে।
‘আসল তৃণমূল’ গঠন ও টলমল ঘাসফুল শিবির
বুধবার বিধানসভায় এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হয়। একদিকে যখন ‘আসল তৃণমূল’ শিবিরে ৫৮ জন বিধায়ক যোগ দিয়েছেন এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্পিকার স্বীকৃতি দিয়েছেন, ঠিক তখনই দলের অন্দরে এই ভাঙন রুখতে বড় ধাক্কা খেলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ‘আসল তৃণমূল’-এর নেতারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁরা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব মানছেন না এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে শুধুমাত্র ‘পরামর্শদাতা’ হিসেবেই দলে চান। এই চরম টানাপোড়েনের আবহেই মেয়রের এই ইস্তফা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
নবান্নে শুভেন্দুর সঙ্গে বৈঠক, নেপথ্যে কী?
রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে বেশি চর্চা হচ্ছে এদিন ফিরহাদ হাকিমের নবান্ন সফর নিয়ে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার ঠিক আগেই তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কলকাতা পুরসভার প্রশাসনিক কাজ সচল রাখা নাকি নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করা— ঠিক কী কারণে এই বৈঠক, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে এই বৈঠকের পরই ববি হাকিম কালীঘাটে গিয়ে দলনেত্রীর কাছে সম্মানের সাথে বিদায় চান।
’যুবরাজ’-এর বাড়িতে ইডি, আরও কোণঠাসা দল
অন্যদিকে, দলের এই অভ্যন্তরীণ সংকটের মাঝেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-র হানা এবং নতুন করে সমন জারির ঘটনা ‘যুবরাজ’-এর অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। একদিকে কেন্দ্রীয় এজেন্সির চাপ, অন্যদিকে দলের সিংহভাগ বিধায়কদের ‘আসল তৃণমূল’ গঠন করে দলনেত্রীর হাত থেকে রাশ কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা— সব মিলিয়ে কার্যত কোণঠাসা হয়ে পড়েছে তৃণমূলের মূল শিবির।


Recent Comments