লোকসভার বাদল অধিবেশনে তুমুল বিতর্কের জেরে বড় পদক্ষেপ নিলেন স্পিকার ওম বিড়লা। মহিলা সাংসদদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, আপত্তিকর মন্তব্য এবং অশালীন ভাষা ব্যবহারের অভিযোগে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে চলতি বাদল অধিবেশনের বাকি সময়ের জন্য লোকসভা থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। বুধবার সরকারের পক্ষ থেকে আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল সাসপেনশনের প্রস্তাব পেশ করলে কণ্ঠভোটে তা গৃহীত হয়।
সংসদ সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি লোকসভার অধিবেশন চলাকালীন বিদ্রোহী মহিলা সাংসদদের সঙ্গে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের তীব্র বাগ্বিতণ্ডা হয়। অভিযোগ, সেই সময় তিনি একাধিক আপত্তিকর ও অশালীন শব্দ ব্যবহার করেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে লোকসভার পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে ন্যাশনাল সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া (NCPI)-র সাংসদ মিতালি বাগ, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়-সহ একাধিক সদস্য স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগে দাবি করা হয়, মহিলা সাংসদদের উদ্দেশে ব্যবহৃত ভাষা সংসদের মর্যাদার পরিপন্থী এবং তা সাংসদদের আচরণবিধিরও লঙ্ঘন। অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি খতিয়ে দেখে স্পিকার শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। এরপরই সরকারের পক্ষ থেকে সাসপেনশনের প্রস্তাব আনা হয় এবং লোকসভার অনুমোদনের পর কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাদল অধিবেশনের অবশিষ্ট সময়ের জন্য সাসপেন্ড করা হয়।
প্রসঙ্গত, তৃণমূল কংগ্রেসে ভাঙনের পর থেকেই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দল ছেড়ে NCPI-তে যোগ দেওয়া সাংসদদের মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত ক্রমশ প্রকাশ্যে এসেছে। এর আগেই কাকলি ঘোষ দস্তিদার স্পিকারের কাছে চিঠি দিয়ে অভিযোগ করেছিলেন, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার মহিলা সাংসদদের প্রতি অসম্মানজনক ও অশালীন ভাষা ব্যবহার করছেন। সেই অভিযোগের জেরেই সংসদের ভিতরে উত্তেজনা আরও বাড়ে।
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূল কংগ্রেসে বড়সড় ভাঙন দেখা দেয়। দলের প্রায় ২০ জন সাংসদ দল ছেড়ে NCPI-তে যোগ দেন এবং পরে লোকসভায় পৃথক আসনে বসতে শুরু করেন। সেই সময় থেকেই দুই পক্ষের রাজনৈতিক সম্পর্ক তীব্র তিক্ততায় পৌঁছায়। বুধবারের এই সাসপেনশনের ঘটনাকে সেই দীর্ঘদিনের সংঘাতেরই বড় পরিণতি হিসেবে দেখছে রাজনৈতিক মহল।
তবে উল্লেখ্য, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তাঁর পক্ষ থেকে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনও বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া প্রকাশ্যে আসেনি।


Recent Comments