একুশে জুলাইয়ের প্রস্তুতির আবহে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই নতুন করে জটিলতা তৈরি করেছে দলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ সংক্রান্ত মামলা। সোমবার কলকাতা হাই কোর্টে মামলাটির শুনানিতে বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের বেঞ্চ কোনও হস্তক্ষেপ করতে রাজি হয়নি। ফলে দলের তিনটি ফ্রিজ হওয়া ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার নিয়ে অনিশ্চয়তা আপাতত কাটল না।
এই বিতর্কের সূত্রপাত দলের প্রাক্তন কোষাধ্যক্ষ অরূপ বিশ্বাসের একটি চিঠিকে কেন্দ্র করে। তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানান, দলের ভিতরে নেতৃত্ব নিয়ে বিভ্রান্তি এবং একাধিক সাংসদ-বিধায়কের বিদ্রোহের কারণে আর্থিক লেনদেনে জটিলতা তৈরি হতে পারে। সেই পরিস্থিতিতে দলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সমস্ত ধরনের লেনদেন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার আবেদন করেন তিনি। তাঁর আশঙ্কা ছিল, আগে থেকে স্বাক্ষর করা চেক বা অন্যান্য আর্থিক নথির অপব্যবহার হতে পারে।
অরূপ বিশ্বাসের এই অবস্থানকে সমর্থন করেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ও। পাশাপাশি, তাঁর অনুগামী কয়েকজন বিধায়কও প্রশাসনের কাছে একই ধরনের আবেদন জানান। এরপরই বিষয়টি তদন্তের আওতায় আসে এবং আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখতে শুরু করে তদন্তকারী সংস্থা।
ইডির দাবি, দলের কয়েকটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বিপুল অঙ্কের সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের তথ্য মিলেছে। সেই কারণেই তিনটি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কের কাছে বড় অঙ্কের লেনদেনের বিস্তারিত তথ্যও চাওয়া হয়েছে।
এরপর ফ্রিজ হওয়া অ্যাকাউন্টগুলি ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয় ‘কালীঘাট তৃণমূল’। আগে একটি বেঞ্চ বিশেষ অফিসারের তত্ত্বাবধানে সীমিতভাবে অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের অনুমতি দিলেও, সোমবারের শুনানিতে বিচারপতি কৃষ্ণা রাও সেই বিষয়ে কোনও নতুন নির্দেশ দেননি। ফলে আগের নির্দেশ কার্যকর হয়নি এবং অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের পথও আপাতত খুলল না।
রাজনৈতিক মহলের মতে, দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং আর্থিক অনিশ্চয়তার এই পরিস্থিতি তৃণমূলের জন্য অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দিল। বিশেষ করে একুশে জুলাইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচির ঠিক আগে এই আইনি জটিলতা দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েও জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।
তবে মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনও হয়নি। আগামী দিনে আদালতের পরবর্তী পর্যায়ের শুনানি এবং তদন্তকারী সংস্থার পদক্ষেপের দিকেই এখন নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।


Recent Comments