সরস্বতী পুজো মিটেছে, কিন্তু জ্বর কমেনি। বরং গত এক সপ্তাহে কলকাতা এবং শহরতলি জুড়ে ঘরে ঘরে ভাইরাল ফিভার বা সর্দি-কাশির প্রকোপ জ্যামিতিক হারে বেড়েছে। আবহাওয়ার এই খামখেয়ালিপনা—কখনও কনকনে উত্তুরে হাওয়া, আবার কখনও প্যাচপ্যাচে গরম—এই জলেই বাড়ছে ভাইরাস। শহরের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোর আউটডোরে চোখ রাখলেই পরিস্থিতির ভয়াবহতা বোঝা যাচ্ছে। প্রতিদিন গড়ে কয়েকশো রোগী আসছেন জ্বর, শ্বাসকষ্ট এবং গলা ব্যথার সমস্যা নিয়ে।
উপসর্গ কী কী? চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, এবারের জ্বরের ধরনটা একটু আলাদা। ধুম জ্বরের (১০২-১০৩ ডিগ্রি) সঙ্গে থাকছে মারাত্মক গা-হাত-পা ব্যথা, শুকনো কাশি এবং অনেকের ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট। বিশেষ করে শিশু এবং বয়স্কদের মধ্যে এই সংক্রমণ দ্রুত ছড়াচ্ছে। নাইসেড (NICED)-এর ভাইরোলজিস্টরা সতর্ক করছেন, এটি মূলত ইনফ্লুয়েঞ্জা এবং অ্যাডিনো ভাইরাসের জোড়া ফলা হতে পারে। ২০২৬ সালের এই সময়ে ভাইরাসের স্ট্রেইন কিছুটা শক্তিশালী মনে হচ্ছে। আবহাওয়ার পরিবর্তনের সময় শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কিছুটা কমে যায়, সেই সুযোগটাই নিচ্ছে ভাইরাস।
হাসপাতালের ছবি: আজ সকালে বি সি রায় শিশু হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেল উদ্বেগজনক ছবি। প্রতিটি বেড ভর্তি, এমনকি মেঝেতেও শয্যা পাততে হয়েছে। উদ্বিগ্ন এক মা, বারাসাতের বাসিন্দা রেহানা বিবি বললেন, “তিন দিন ধরে ছেলের জ্বর কমছে না, তাই আজ ভর্তি করতে বাধ্য হলাম।” একই ছবি পিজি এবং মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও। বেসরকারি নার্সিংহোমগুলিতেও পেডিয়াট্রিক আইসিইউ-এর আকাল।
বিশিষ্ট চিকিৎসকের পরামর্শ: নিউস্কোপ বাংলার পক্ষ থেকে বিশিষ্ট জেনারেল ফিজিশিয়ান ডঃ অরিন্দম বিশ্বাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেন। তাঁর কথায়: ১. অ্যান্টিবায়োটিক নয়: নিজের বুদ্ধিতে দোকান থেকে অ্যান্টিবায়োটিক কিনে খাবেন না। এটি ভাইরাল জ্বর, অ্যান্টিবায়োটিকে কাজ হবে না, উল্টে ক্ষতি হতে পারে। ২. জল পান: শরীর হাইড্রেটেড রাখতে প্রচুর পরিমাণে জল, ফলের রস এবং স্যুপ খেতে হবে। ৩. মাস্ক ব্যবহার: ভিড় জায়গায় গেলে মাস্ক পরুন। হাঁচি-কাশির সময় রুমাল ব্যবহার করুন। ৪. বিপদ সংকেত: যদি শ্বাসকষ্ট হয়, বা জ্বর ৩ দিনের বেশি থাকে, তবে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
বসন্তের বাতাস লাগার আগেই এই অসুখ শহরবাসীকে কাবু করে ফেলেছে। তাই আনন্দ করার পাশাপাশি সতর্ক থাকাই এখন সুস্থ থাকার একমাত্র চাবিকাঠি।
