আ মরি বাংলা ভাষা, নিউজস্কোপ-এর বিশেষ নিবেদন
অশোক সেনগুপ্ত
২১ ফেব্রুয়ারির আগেই পূর্ণ উদ্যমে শুরু হয়ে গেছে পরিকল্পনা-প্রস্তুতি। সামাজিক মাধ্যম ওই দিন ভরে যাবে মাতৃভাষার ভাবনায়। বছরভর মা-বাবাকে ‘মাম্মি’-‘ড্যাডি’ বলে বড় হওয়া যুবক-যুবতীরাও লিখবেন ‘মোদের গরব মোদের আশা ’।
এর মধ্যেই ১৮ ফেব্রুয়ারি, বুধবার অবনীন্দ্র সভাঘরে হল প্রথম ডঃ আরএস চৌধুরী স্মারক বক্তৃতা। কেআরএস ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন আয়োজিত এই উদ্যোগে ‘ভাষা বলতে আমরা কী বুঝি, আর কী বোঝা উচিত’— এ প্রসঙ্গে বলেন ভাষাবিদ, প্রাক্তন উপাচার্য ডঃ পবিত্র সরকার। সেখানে হল বহুভাষিক কবি-সম্মেলন, লেখক সম্বর্ধনা।
পত্রপত্রিকাগুলোও নেমে পড়েছে বিষয়টির রূপায়ণ নিয়ে। পুলিৎজার পুরস্কার বিজয়ী মার্কিন ও ভারতীয় বাঙালী বংশদ্ভুত লেখিকা ঝুম্পা লাহিড়ী তাঁর গল্প সংকলন ‘ইন্টারপ্রেটার অফ ম্যালাডিস’-এর জন্য ২০০০ সালে পুলিৎজার পুরস্কার পান। তাঁর সঙ্গে কথা বলে জয়শ্রী রায়ের লেখা প্রচ্ছদকাহিনী প্রকাশিত হয়েছে ১৭ ফেব্রুয়ারির ‘দেশ’ পত্রিকায়। শিরোনাম— ‘ভাষার মধ্যে দিয়ে হেঁটে এসে আরও ভাল করে বুঝতে পারলাম, আমি কী বা আমি কেন।’
ভাষাস্মরণের এই আবহে পশ্চিমবঙ্গ সরকার স্মরণ করল দুই কবিকে। জীবনানন্দ দাশের জন্মদিন ছিল ১৭ ফেব্রুয়ারি। তাঁকে স্মরণ করা হল ১৮ই সন্ধ্যায় বাংলা আকাদেমী সভাঘরে। জীবনানন্দর জীবন ও কৃতি বিষয়ে আলোচনা ছিল— ‘শুভ রাষ্ট্রের ঢের দূরে আজ’। বক্তা হিন্দোল ভট্টাচার্য। জীবনানন্দর কবিতাপাঠে ছিলেন পাঁচ জন। সুভাষ মুখোপাধ্যায়কে স্মরণ করা হল ১৯শে ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় বাংলা আকাদেমী সভাঘরে। সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের কবিতাপাঠে ছিলেন পাঁচ জন। স্মারক বক্তৃতা দেন অর্ণব সাহা। বিষয়— ‘মিথ্যার সঙ্গে যেন ঘর না করি, সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের কবিতা’। দুটিতেই সভামুখ্য পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমীর সভাপতি ব্রাত্য বসু।
পশ্চিমবঙ্গ সরকার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ২০শে সন্ধ্যায় বাংলা আকাদেমী সভাঘরে আয়োজন করছে বিদ্যাসাগর স্মারক বক্তৃতা। বলবেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ শিবাজীপ্রতিম বসু। বিষয়— ‘বাঙালি, বাংলা ভাষা ও বিদ্যাসাগর’। সঙ্গে নানা ভাষার গান। সভামুখ্য পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমীর সভাপতি ব্রাত্য বসু।
এ ছাড়াও, পশ্চিমবঙ্গ সরকার ২১শে ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষা দিবস উদ্যাপন এবং বঙ্গবিভূষণ ও বঙ্গভূষণ সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান করবে। ওই দিন থেকে ১ মার্চ দক্ষিণ কলকাতার বাঘা যতীন, বিজয়গড়, রিজেন্ট এস্টেটে লায়েলকা মাঠে হবে এই ‘একুশের বইমেলা’।
এছাড়াও ভাষাদিবস উপলক্ষে উত্তরবঙ্গ-সহ রাজ্যের নানা স্থানে নানা আয়োজন হচ্ছে। প্রস্তুতি চলছে ওপার বাংলাতেও বিভিন্ন জায়গায়।

