হঠাৎ করেই যেন থমকে গিয়েছে রোজকার স্বাভাবিক ছন্দ। কারণটা আর কিছুই নয়, রান্নার গ্যাস বা এলপিজি (LPG)-র তীব্র হাহাকার। সাধারণ গৃহস্থালি থেকে শুরু করে এই গ্যাস সংকটের সবচেয়ে বড় এবং মারাত্মক প্রভাবটি পড়েছে আমাদের স্বাস্থ্যক্ষেত্রে। হ্যাঁ, ঠিকই শুনছেন। গ্যাস না থাকার কারণে বিভিন্ন হাসপাতালগুলোতে (Hospital) রোগীদের জন্য রান্না প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। নিউজস্কোপ বাংলার (Newscope Bangla) নিজস্ব অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এমন এক ভয়ংকর চিত্র, যা রীতিমতো আতঙ্ক তৈরি করেছে সাধারণ মানুষের মনে। পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal) রাজ্যের একাধিক জায়গায় এই সমস্যা এখন চরম আকার ধারণ করেছে।
হাসপাতালে চরম সংকট ও রোগীদের ভোগান্তি
হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের জন্য সঠিক সময়ে পুষ্টিকর ও জীবাণুমুক্ত খাবার কতটা জরুরি, তা আর আলাদা করে বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু গ্যাস সাপ্লাই না থাকায় চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কলকাতা (Kolkata) সহ রাজ্যের বেশ কিছু সরকারি ও বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রের রান্নাঘরে এখন কার্যত মাছি উড়ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি হাসপাতালের সুপার আমাদের প্রতিনিধিকে জানিয়েছেন, “আমাদের কাছে যে স্টক ছিল, তা একেবারে তলানিতে এসে ঠেকেছে। গত কয়েকদিন ধরে নতুন করে কোনো সিলিন্ডার আসছে না। ডিস্ট্রিবিউটরদের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করা হলেও কোনো সদুত্তর মিলছে না। এভাবে চললে শত শত রোগীর মুখে আমরা কীভাবে অন্ন তুলে দেব, তা ভেবেই আমরা শিউরে উঠছি।” রোগীদের পথ্য হিসেবে সাধারণত সেদ্ধ ভাত, ডাল, সবজি বা হালকা ঝোল দেওয়া হয়। কিন্তু আগুনই যদি না জ্বলে, তবে এই বিপুল সংখ্যক রোগীর খাবার আসবে কোথা থেকে? বাধ্য হয়ে অনেক রোগীর পরিবারকে বাইরের দোকান থেকে খাবার কিনে আনতে হচ্ছে, যা রোগীদের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
ক্যান্টিনগুলোতেও তালা ঝোলার জোগাড়
শুধুমাত্র চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোই নয়, গ্যাসের এই তীব্র আকালের জেরে মাথায় হাত পড়েছে বিভিন্ন ক্যান্টিন (Canteen) মালিকদেরও। স্কুল, কলেজ থেকে শুরু করে বড় বড় অফিসপাড়ার ক্যান্টিনগুলো প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ দুপুরের খাবারের জন্য এই জায়গাগুলোর ওপর নির্ভর করেন। কিন্তু পরপর কয়েকদিন সাপ্লাই না পাওয়ায় অনেক মালিক বাধ্য হয়েই তাদের ঝাঁপ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
সল্টলেকের একটি আইটি পার্কের সংলগ্ন এক ক্যান্টিন মালিক আক্ষেপ করে বলেন, “দোকান খোলা রাখলেও তো লাভ নেই। কাস্টমার এসে ফিরে যাচ্ছে। গ্যাস না থাকলে রান্না করব কী দিয়ে? বেশি দামে ব্ল্যাকে গ্যাস কেনা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। আমাদের ব্যবসার তো বারোটা বেজে গেল, পাশাপাশি যারা রোজ এখানে খেতে আসেন, তারাও চরম বিপাকে পড়েছেন।”
প্রশাসনের ভূমিকা ও সম্ভাব্য কারণ
এই পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পেছনে ঠিক কী কারণ রয়েছে, তা নিয়ে এখনও পর্যন্ত গ্যাস এজেন্সিগুলোর তরফ থেকে কোনো স্পষ্ট উত্তর মেলেনি। একাংশের মতে, পরিবহন ব্যবস্থায় কোনো বড়সড় জটিলতা বা সাপ্লাই চেইনে (Supply Chain) ব্যাঘাত ঘটার কারণেই এই সংকট তৈরি হয়েছে। আবার কেউ কেউ উৎসবের মরশুমের আগে মজুতদারির অভিযোগও তুলছেন। তবে কারণ যাই হোক না কেন, চূড়ান্ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষই। বিশেষ করে হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীর পরিজনেরা সবচেয়ে বেশি অসহায় বোধ করছেন।

