ঘড়ির কাঁটা যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে বুকের ধুকপুকানি। মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের কাছে বাংলা বা ইংরেজি যদি হয় ‘ওয়ার্ম-আপ’, তবে আসল ‘ফাইনাল ম্যাচ’ হলো ইতিহাস। আগামীকাল, শুক্রবার (৬ই ফেব্রুয়ারি) রাজ্যের কয়েক লক্ষ পরীক্ষার্থী বসতে চলেছে ইতিহাসের পরীক্ষায়। আর চিরকালই ছাত্রছাত্রীদের কাছে ইতিহাস মানে সাল-তারিখের গোলকধাঁধা আর বড় প্রশ্নের আতঙ্ক।
আজ, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন প্রান্তে পরীক্ষার্থীদের বাড়িতে কার্যত ‘কার্ফিউ’-এর মেজাজ। শেষ মুহূর্তের রিভিশন চলছে জোরকদমে। কেউ ম্যাপ পয়েন্টিনে চোখ বুলিয়ে নিচ্ছে, তো কেউ ১৮৫৭-র মহাবিদ্রোহের কারণগুলো আরও একবার ঝালিয়ে নিচ্ছে। কিন্তু এই আতঙ্কের আবহে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ এবং মনোবিদরা কী পরামর্শ দিচ্ছেন?
কেন এত ভয় ইতিহাসে? যাদবপুর বিদ্যাপীঠের এক ইতিহাস শিক্ষকের কথায়, “ছাত্রছাত্রীদের মূল ভয়ের জায়গা হলো সাল মনে রাখা। অনেকেই গুলিয়ে ফেলে যে নীল বিদ্রোহ আগে হয়েছিল নাকি সাঁওতাল বিদ্রোহ। তাছাড়া এখন প্রশ্নপত্রের ধরন বদলেছে। মুখস্থ বিদ্যার চেয়ে বিচার-বিশ্লেষণমূলক প্রশ্নের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে বেশি, যা অনেক পড়ুয়াকেই চিন্তায় রাখছে।” তিনি আরও জানান, ২ নম্বরের সংক্ষিপ্ত প্রশ্নগুলোই আসলে গেম-চেঞ্জার। সেখানে সঠিক তথ্য দিলে পুরো নম্বর, কিন্তু ভুল হলে শূন্য।
পর্ষদের অভয়বাণী: মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি অবশ্য পরীক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি জানিয়েছেন, “ইতিহাস মানেই ভয়ের কিছু নয়। প্রশ্নপত্র এমনভাবেই তৈরি করা হয়েছে যাতে সাধারণ মেধার ছাত্রছাত্রীরাও ভালো নম্বর পেতে পারে। অযথা আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই।” পর্ষদ সূত্রে খবর, এবার প্রশ্নপত্রে তথ্যের নির্ভুলতার ওপর বেশি জোর দেওয়া হবে, ভাষা-শৈলীর ওপর নয়। অর্থাৎ, সহজ ভাষায় সঠিক তথ্য লিখলেই মিলবে নম্বর।
অভিভাবকদের টেনশন: পরীক্ষার্থীদের চেয়েও বেশি টেনশনে দেখা যাচ্ছে অভিভাবকদের। সল্টলেকের বাসিন্দা সুতপা দেবী বললেন, “মেয়ে সারা বছর ভালোই পড়েছে, কিন্তু ইতিহাসের নাম শুনলেই ওর হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যায়। কালকের দিনটা ভালোয় ভালোয় কাটলে অনেকটা নিশ্চিন্ত হব।” মনোবিদরা অবশ্য অভিভাবকদের সতর্ক করছেন। তাঁদের পরামর্শ, পরীক্ষার আগের রাতে বাচ্চার ওপর বাড়তি চাপ দেবেন না। তাকে পর্যাপ্ত ঘুমানোর সুযোগ দিন এবং ইতিবাচক কথা বলুন।
শেষ মুহূর্তের টিপস: নিউস্কোপ বাংলার পক্ষ থেকে বিশিষ্ট ইতিহাস শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে পরীক্ষার্থীদের জন্য রইল কিছু টিপস: ১. পয়েন্ট করে উত্তর: ঢালাও রচনার মতো না লিখে, উত্তর পয়েন্ট করে লিখুন। এতে পরীক্ষকের খাতা দেখতে সুবিধা হয় এবং নম্বর বেশি ওঠে। ২. ম্যাপ পয়েন্টিন: ভারতের ম্যাপে ঐতিহাসিক স্থানগুলো চিহ্নিত করার সময় পেন্সিল ব্যবহার করুন এবং পরিষ্কারভাবে নাম লিখুন। ৩. সময়ের দিকে নজর: ছোট প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে যেন বড় প্রশ্নের জন্য সময় কম না পড়ে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। ৪. মাথা ঠান্ডা: কোনো সাল মনে না পড়লে ভুল লিখবেন না। প্রয়োজনে সাল না লিখে ‘ঊনবিংশ শতকের প্রথমার্ধে’—এমন বাক্যাংশ ব্যবহার করুন।
আজকের রাতটা হয়তো অনেকেরই কাটবে বইয়ের পাতায় মুখ গুঁজে। তবে মনে রাখবেন, একটি পরীক্ষা জীবনের সব কিছু নয়। মাথা ঠান্ডা রেখে নিজের সেরাটা দিয়ে এসো। শুভকামনা রইল নিউস্কোপ বাংলার পক্ষ থেকে।
