আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal) বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পারদ ক্রমেই চড়ছে। একদিকে যেমন শাসক এবং বিরোধী দলের মধ্যে কাদা ছোঁড়াছুড়ি তুঙ্গে, তেমনই এবার জাতীয় নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India) বা ইসিআই (ECI)-এর ভূমিকা নিয়েও চরম বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার পরেই রাজ্য প্রশাসনের অন্দরে ব্যাপক রদবদল ঘটিয়েছে কমিশন। আর এই পদক্ষেপ ঘিরেই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress) সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।
কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, রাজ্যের ৫০ জনেরও বেশি শীর্ষ প্রশাসনিক ও পুলিশ আধিকারিককে আচমকাই বদলি করা হয়েছে। এই পদক্ষেপকে ‘চূড়ান্ত রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, এহেন আচরণ আসলে বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পদ্ধতিগত রাজনীতিকরণ এবং খোদ সংবিধানের ওপর সরাসরি আঘাত। রাজ্যের শাসক দলের অভিযোগ, কমিশন সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কাজ করছে। দলের বর্ষীয়ান নেতা ও সাংসদ পার্থ ভৌমিক (Partha Bhowmick) এই প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনকে সরাসরি ভারতীয় জনতা পার্টি (Bharatiya Janata Party) বা বিজেপি (BJP)-এর ‘এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ করেছেন। তিনি জানান, আমলারা নয়, বরং রাজ্যের সাধারণ মানুষ ভোট দেন এবং তাঁদের হৃদয়ে রয়েছেন মমতাই।
এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেই মুখ্যমন্ত্রীর পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন আম আদমি পার্টি (Aam Aadmi Party) বা আপ (AAP)-এর প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল (Arvind Kejriwal)। তিনি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে জানিয়েছেন, বিরোধী দল প্রতারণার মাধ্যমে নির্বাচন জেতার জন্য কমিশনকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। নিজের রাজ্য দিল্লি (Delhi)-র উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, কয়েক বছর আগে বিধানসভা নির্বাচনের সময়েও রাজধানীতে ঠিক একই রকম পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়েছিল। তাঁর মতে, গণতন্ত্র রক্ষার এই কঠিন লড়াইয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাই লড়ছেন।
অন্যদিকে, রাজ্যের রাজনৈতিক তরজার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে কলকাতা (Kolkata)-র হাই-প্রোফাইল কেন্দ্র ভবানীপুর (Bhabanipur)। এই কেন্দ্রে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে পদ্ম শিবিরের হয়ে ময়দানে নেমেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বৃহস্পতিবার তিনি এই কেন্দ্রে তাঁর প্রথম নির্বাচনী প্রচার শুরু করেন। সকালে চকবেড়িয়া রোডে দলের নির্বাচনী কার্যালয় উদ্বোধনের পর এক বিশাল র্যালিতে অংশ নেন তিনি। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রবল আত্মবিশ্বাসের সুরে তিনি দাবি করেন যে, এই কেন্দ্রে তাঁর জয় নিশ্চিত এবং তিনি অন্তত ২৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে জিতবেন। মুখ্যমন্ত্রীকে ‘অনুপ্রবেশকারী এবং দুর্নীতিগ্রস্তদের নেত্রী’ বলে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি।
এই রাজনৈতিক উত্তাপের মাঝেই বিরোধী দল রাজ্যের জন্য তাদের দ্বিতীয় প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে। এই তালিকায় মোট ১১১ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। উল্লেখ্য, হিঙ্গলগঞ্জ থেকে রেখা পাত্র এবং সোনারপুর দক্ষিণ থেকে রূপা গঙ্গোপাধ্যায়কে প্রার্থী করা হয়েছে। এছাড়া, এন্টালি থেকে প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল এবং বলাগড় থেকে সুমনা সরকারের মতো পরিচিত মুখেরা এই দফায় টিকিট পেয়েছেন।
শুধু পশ্চিমবঙ্গেই নয়, দেশের অন্যান্য প্রান্তেও বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে উন্মাদনা তুঙ্গে। কেরালা (Kerala)-তে পদ্ম শিবিরের রাজ্য সভাপতি রাজীব চন্দ্রশেখর (Rajeev Chandrasekhar) দলের দ্বিতীয় প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে দাবি করেছেন, তাঁরা রাজ্যের মানুষকে দুর্নীতিমুক্ত শাসন উপহার দিতে বদ্ধপরিকর। অন্যদিকে দক্ষিণের রাজ্য তামিলনাড়ু (Tamil Nadu)-তে শাসক দল ডিএমকে (DMK)-র সঙ্গে আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছে বামপন্থী দল সিপিআই(এম) (CPI(M))। তারা অন্তত ছ’টি আসনের দাবি জানালেও, শাসক দল পাঁচটি আসন ছাড়তে রাজি হয়েছে, যার ফলে একটি জোট-জটের সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি, উত্তর-পূর্বের রাজ্য অসম (Assam)-এ শাসক শিবির তাদের ৮৮ জনের প্রথম প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে, যেখানে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা (Himanta Biswa Sarma) টানা ষষ্ঠবারের জন্য তাঁর চেনা গড় জালুকবাড়ি (Jalukbari) থেকে লড়বেন।


Recent Comments