দিল্লির বুরারি (Burari) কাণ্ডের স্মৃতি এখনও দগদগে। তার মধ্যেই এবার উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) মথুরায় ঘটে গেল এক হাড়হিম করা ঘটনা। মঙ্গলবার সকালে মহাবন থানা এলাকার একটি বাড়ি থেকে উদ্ধার হলো স্বামী, স্ত্রী এবং তাঁদের তিন নাবালক সন্তানের নিথর দেহ। মৃতদেহের পাশেই পড়েছিল দুধের গ্লাস। আর রান্নাঘরের দেওয়ালে লেখা ছিল এক রহস্যময় বার্তা—”আমরা আত্মহত্যা করছি।”
কীভাবে সামনে এল ঘটনা? পুলিশ সূত্রে খবর, মৃত ব্যক্তি হলেন ৩৫ বছর বয়সী মণীশ (Manish), তাঁর স্ত্রী সীমা (Seema) এবং তাঁদের তিন সন্তান—হানি (৫), প্রিয়াংশী (৪) এবং পঙ্কজ (২)। মঙ্গলবার সকাল থেকেই মণীশের বাড়িতে কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছিল না। দীর্ঘক্ষণ দরজা বন্ধ দেখে সন্দেহ হয় প্রতিবেশীদের। তাঁরা জানালা দিয়ে উঁকি মারতেই দেখেন, ঘরের মেঝেতে নিথর হয়ে পড়ে আছে ৫টি দেহ। খবর পেয়ে পুলিশ এসে দরজা ভেঙে দেহগুলি উদ্ধার করে।
বিষ মেশানো দুধ? প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, দুধের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে তা পান করেই সপরিবারে আত্মঘাতী হয়েছেন মণীশ। মৃতদেহের পাশ থেকে উদ্ধার হওয়া দুধের গ্লাসটি ফরেনসিক (Forensic) পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। তবে কেন তাঁরা এমন চরম সিদ্ধান্ত নিলেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। মণীশ পেশায় কৃষক ছিলেন এবং তাঁর ভাইদের সঙ্গে পাশেই থাকতেন। আত্মীয়দের দাবি, মণীশ ও সীমার মধ্যে কোনো অশান্তি ছিল না। ২০১৮ সালে তাঁদের বিয়ে হয় এবং সংসার বেশ সুখেই চলছিল।
দেওয়ালের রহস্যময় লেখা: সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয়টি হলো রান্নাঘরের দেওয়ালে লেখা সুইসাইড নোট। সেখানে স্পষ্ট লেখা ছিল আত্মহত্যার কথা। এটি কি শুধুই মানসিক অবসাদ, নাকি এর পেছনে রয়েছে কোনো তান্ত্রিক প্রথা বা অন্ধবিশ্বাস? বুরারি কাণ্ডের সঙ্গে মিল থাকায় পুলিশ সেই দিকটিও খতিয়ে দেখছে।
মথুরার এই ঘটনা ফের একবার প্রশ্ন তুলে দিল—সমাজের গভীরে কি বাসা বাঁধছে কোনো এক অদৃশ্য অসুখ, যা গোটা একটা পরিবারকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে? উত্তর খুঁজছে পুলিশ।

Recent Comments