উত্তরপ্রদেশ (Uttar Pradesh) রাজ্যের আগ্রা (Agra) সংলগ্ন মথুরা (Mathura) জেলায় এক চাঞ্চল্যকর ও মর্মান্তিক ঘটনার জেরে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। জানা গিয়েছে, এক গোরক্ষকের (Gau Rakshak) মর্মান্তিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে পুলিশ এবং স্থানীয় জনতার মধ্যে এক ভয়াবহ খণ্ডযুদ্ধ বেধে যায়।
ঘটনার সূত্রপাত মথুরার কোশী (Kosi) এলাকায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের তরফ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, ওই গোরক্ষককে অত্যন্ত নির্মমভাবে নিজেদের গাড়ির চাকায় পিষে মেরেছে একদল বেপরোয়া গরু পাচারকারী। এই হৃদয়বিদারক খবরের পর থেকেই গভীর শোক এবং তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় সাধারণ মানুষ। নিজেদের ক্ষোভ উগড়ে দিতে, নিহত ব্যক্তির প্রতি সুবিচারের আশায় এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এলাকার মানুষ একজোট হয়ে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। সাধারণ মানুষের স্পষ্ট দাবি ছিল, দিনের আলোয় এহেন পৈশাচিক ঘটনা কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না এবং স্থানীয় প্রশাসনকে অবিলম্বে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
তবে, এই শান্তিপূর্ণ বা স্বাভাবিক বিক্ষোভ খুব দ্রুত এক হিংসাত্মক রূপ ধারণ করে। পরিস্থিতি ক্রমশ প্রশাসনের হাতের বাইরে চলে যেতে শুরু করে ছাতা (Chhata) এলাকায়। বিক্ষোভকারীদের রাস্তা থেকে সরাতে এবং অবরুদ্ধ যান চলাচল স্বাভাবিক করতে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রত্যক্ষদর্শী এবং স্থানীয়দের মতে, পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রথমদিকে কিছুটা শান্তভাবে বোঝানোর চেষ্টা করলেও, পরবর্তীতে ভিড় সরাতে হঠাৎ করেই লাঠিচার্জ শুরু করে। পুলিশের এই অপ্রত্যাশিত পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের ক্ষোভের আগুনে আক্ষরিক অর্থেই ঘি ঢালার মতো কাজ করে। এরপরই উত্তেজিত বিক্ষোভকারীরা এবং গোরক্ষকদের সমর্থকরা পুলিশের দিকে এলোপাথাড়ি ইট-পাটকেল ছুঁড়তে শুরু করেন। মুহূর্তের মধ্যে গোটা এলাকা কার্যত রণক্ষেত্রের আকার ধারণ করে।
রাহুল, একজন স্থানীয় বাসিন্দা (নাম পরিবর্তিত), তাঁর চোখে দেখা এই মর্মান্তিক ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, “মানুষ এমনিতেই একজন কাছের মানুষকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ ছিল। আমাদের চোখের সামনে এক তরতাজা প্রাণকে এমন নির্মমভাবে মরতে হলো। তার উপর যখন পুলিশ এসে আমাদের সান্ত্বনা দেওয়ার বদলে আমাদের উপরই লাঠি চালাল, তখন আর এলাকার যুবকরা নিজেদের আবেগ ও রাগ ধরে রাখতে পারেনি।”
এই ব্যাপক এবং আচমকা সংঘর্ষে দুই পক্ষেই বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জনতার ছোঁড়া ইটবৃষ্টি ও পুলিশের পাল্টা লাঠিচার্জের ফলে একাধিক পুলিশকর্মী গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, পুলিশের মারে আহত হয়েছেন ডজন খানেক সাধারণ মানুষ। রক্তস্নাত অবস্থায় আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে খবর।
বিক্ষোভকারীদের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এতটাই তীব্র ছিল যে তাঁরা রাগের মাথায় পুলিশের প্রায় আধ ডজন গাড়ি সম্পূর্ণ ভাঙচুর করেছেন। রাস্তার আশেপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা গাড়ির কাঁচের টুকরো, ইট-পাথর এবং ছেঁড়া জুতো এই ঘটনার ভয়াবহতার স্পষ্ট প্রমাণ দিচ্ছে। বর্তমানে ওই এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং নতুন করে যাতে কোনো অশান্তি না ছড়ায়, সেই কারণে বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং র্যাফ মোতায়েন করা হয়েছে। গোটা এলাকার পরিস্থিতি বর্তমানে থমথমে এবং এক অজানা আতঙ্ক বিরাজ করছে।


Recent Comments