ভারত (India) বনাম পাকিস্তান (Pakistan) ম্যাচ বয়কটের ডাক দিয়ে বড় বিপাকে পড়েছিলেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (PCB)-এর চেয়ারম্যান মহসিন নকভি (Mohsin Naqvi)। একদিকে আইসিসি (ICC)-র কড়া শাস্তির ভয়, অন্যদিকে নিজের দেশের সরকারের ‘ইগো’—এই দুইয়ের মাঝে চ্যাপ্টা হয়ে শেষমেশ এক অভিনব ‘কৌশল’ নিলেন তিনি। আনন্দবাজার পত্রিকা ও অন্যান্য সূত্রের খবর অনুযায়ী, নিজের মান বাঁচাতে নকভি নিজেই নাকি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (BCB)-কে দিয়ে একটি ‘চিঠি’ লিখিয়েছেন! অর্থাৎ, সোজা কথায়—সাপও মরল, লাঠিও ভাঙল না।
আসল ঘটনাটা কী? বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ ম্যাচে ভারতের বিরুদ্ধে খেলতে নামবে না পাকিস্তান—এমনটাই হুঙ্কার ছেড়েছিল ইসলামাবাদ (Islamabad)। কিন্তু আইসিসি সাফ জানিয়ে দেয়, না খেললে বড়সড় আর্থিক জরিমানা তো হবেই, এমনকি নির্বাসনও জুটতে পারে। এই অবস্থায় পিছু হটতে হলে মুখ পুড়বে পাক সরকারের। রিপোর্ট বলছে, তখনই ‘প্ল্যান বি’ ছকেন মহসিন নকভি। তিনি বিসিবি (BCB) সভাপতি আমিনুল ইসলাম (Aminul Islam)-কে অনুরোধ করেন একটি ‘ফর্মাল আপিল’ বা আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানাতে।
বাংলাদেশের ‘সাজানো’ অনুরোধ: নকভির পরিকল্পনা মতোই লাহোরে (Lahore) উড়ে যান বিসিবি প্রধান। এরপর তিনি সংবাদমাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে বলেন, “বিশ্ব ক্রিকেটের ইকোসিস্টেম বা স্বার্থের কথা মাথায় রেখে আমি পাকিস্তানকে অনুরোধ করছি ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচটি খেলার জন্য।” সূত্রের খবর, এই অনুরোধটি আসলে ছিল নকভিরই শিখিয়ে দেওয়া বুলি। যাতে পাকিস্তান সরকার বলতে পারে—”আমরা বয়কটে অনড় ছিলাম, কিন্তু বন্ধু দেশ বাংলাদেশ (Bangladesh) এবং শ্রীলঙ্কা (Sri Lanka)-র অনুরোধে এবং ক্রিকেটের স্বার্থে আমরা নমনীয় হয়েছি।”
বরফ গলার নেপথ্য কাহিনি: মাত্র ৯ দিনের মাথায় পাকিস্তান সরকারের এই ইউ-টার্ন (U-turn) দেখে অনেকেই অবাক হয়েছিলেন। কিন্তু ভেতরের খবর হলো, আইসিসি-র চাপ আর আর্থিক ক্ষতির ভয়ই আসল কারণ। তবে সরাসরি হার স্বীকার করলে দেশের মানুষের কাছে ‘ইমেজ’ নষ্ট হতো। তাই বাংলাদেশকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করলেন মহসিন নকভি।
অবশেষে নাটকীয় যবনিকা পতনের পর আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বো (Colombo)-তে হতে চলা ভারত-পাক ম্যাচ এখন নিশ্চিত। তবে মাঠের বাইরের এই ‘ফিক্সিং’ বা কূটনৈতিক চাল নিয়ে ক্রিকেট মহলে এখন জোর চর্চা। নকভির এই ‘ফাঁস’ হওয়া চাল কি তাঁর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলল না? উত্তর দেবে সময়।
