Thursday, February 26, 2026
Leaderboard Ad Space (728x90) - Responsive
Homeরাজ্য ও রাজনীতিশোকস্তব্ধ বঙ্গ রাজনীতি: গভীর রাতে কলকাতার হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন মুকুল...

শোকস্তব্ধ বঙ্গ রাজনীতি: গভীর রাতে কলকাতার হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন মুকুল রায়

অবসান হলো এক দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াইয়ের। সোমবার (Monday), ২৩ ফেব্রুয়ারি মাঝরাতে প্রয়াত হলেন বাংলার রাজনীতির অন্যতম বর্ণময় ব্যক্তিত্ব মুকুল রায় (Mukul Roy)। কলকাতার বাইপাসের ধারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে দীর্ঘ কয়েক মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর রাত ১টা ৩০ মিনিট নাগাদ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। তাঁর প্রয়াণে শোকস্তব্ধ পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) রাজনৈতিক মহল।

শেষ হলো এক বর্ণময় অধ্যায়

গত কয়েক বছর ধরেই বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যা এবং স্নায়বিক রোগে ভুগছিলেন এই বর্ষীয়ান নেতা। হাসপাতাল সূত্রে খবর, দীর্ঘ অসুস্থতার কারণে তিনি কোমায় (Coma) চলে গিয়েছিলেন। তাঁর ছেলে শুভ্রাংশু রায় (Subhranshu Roy) সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, চিকিৎসকরা আপ্রাণ চেষ্টা করলেও শেষ রক্ষা হয়নি। শুভ্রাংশু আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “বাবা অনেক লড়াই করেছেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত মায়ের কাছেই চলে গেলেন।”

তৃণমূলের ‘সেকেন্ড ইন কম্যান্ড’ থেকে চাণক্য

মুকুল রায় মানেই ছিল রাজনীতির দাবার চাল। ১৯৯৮ সালে তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress) প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) পাশে ছায়ার মতো ছিলেন। সেই সময় থেকে শুরু করে সিঙ্গুর (Singur) ও নন্দীগ্রাম (Nandigram) আন্দোলনে তৃণমূলের বুথ স্তর পর্যন্ত সংগঠন সাজানোর নেপথ্য কারিগর ছিলেন তিনিই। তাঁকে দলনেত্রীর এতটাই আস্থাভাজন মনে করা হতো যে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে ভাইফোঁটাও দিতেন। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক থেকে শুরু করে রাজ্যসভার সাংসদ এবং দেশের রেলমন্ত্রী (Railway Minister) ও জাহাজ প্রতিমন্ত্রী (Minister of State for Shipping) হিসেবেও তিনি দক্ষতার পরিচয় দিয়েছিলেন।দলবদল এবং রাজনীতির মেরুকরণ২০১৭ সালে তৃণমূলের সঙ্গে মনোমালিন্যের জেরে তিনি বিজেপিতে (BJP) যোগ দেন। সেই সময়েও তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতায় ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি অভাবনীয় ফল করে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি কৃষ্ণনগর উত্তর (Krishnanagar Uttar) কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন। তবে সেই বছরেরই জুন মাসে তিনি পুনরায় তৃণমূলে প্রত্যাবর্তন করেন। যদিও শারীরিক অসুস্থতা তাঁকে আর সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরতে দেয়নি। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court) দলত্যাগ বিরোধী আইনের অধীনে তাঁর বিধায়ক পদ খারিজ করে দিয়েছিল।

আরো পড়ুন:  মুর্শিদাবাদে ১৪ আসনের প্রস্তাব? তৃণমূলকে (TMC)শূন্য করার হুঁশিয়ারি হুমায়ুন কবীরের

ব্যক্তিগত জীবন ও প্রয়াণে শোক

১৯৫৪ সালের ১৭ এপ্রিল কাঁচরাপাড়ায় (Kanchrapara) জন্ম নেওয়া মুকুল রায় ছাত্র রাজনীতি থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। স্ত্রী কৃষ্ণা রায়ের মৃত্যুর পর থেকেই তিনি মানসিকভাবে কিছুটা ভেঙে পড়েছিলেন। তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা এবং বিপক্ষ দলের সঙ্গেও সুসম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষমতা তাঁকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল।তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন রাজ্যের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্ব।

Author

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Demo Ad
Sponsored Links

Most Popular

Recent Comments