বাজেট আলোচনা শেষ হওয়ার পর সংসদে জবাবি ভাষণ দিতে উঠেছিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ (Nirmala Sitharaman)। কিন্তু তাঁর সেই ভাষণকে ‘অর্থনৈতিক দলিল’-এর চেয়ে ‘রাজনৈতিক অস্ত্র’ হিসেবেই বেশি দেখছেন বিরোধীরা। বৃহস্পতিবার রাজ্যসভায় অর্থমন্ত্রীর ভাষণে তামিলনাড়ু (Tamil Nadu) এবং বাংলার (West Bengal) প্রতি আক্রমণের সুর ছিল চড়া। নির্মলার অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গ সরকার কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলো ঠিকমতো বাস্তবায়ন করছে না। তাঁর এই মন্তব্যের পরেই পালটা আক্রমণে নামে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)।
নির্মলার নিশানায় বাংলা ও তামিলনাড়ু: বুধবার লোকসভায় (Lok Sabha) নির্মলার নিশানায় ছিল বাংলা, আর বৃহস্পতিবার রাজ্যসভায় (Rajya Sabha) তিনি তোপ দাগলেন তামিলনাড়ুর ডিএমকে (DMK) সরকারের বিরুদ্ধে। তাঁর বক্তব্যের সিংহভাগ জুড়ে ছিল তামিলনাড়ুর প্রসঙ্গ। অবস্থা এমন দাঁড়ায় যে, বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে (Mallikarjun Kharge) কটাক্ষ করে বলেন, “এটা কেন্দ্রীয় বাজেট নাকি তামিলনাড়ুর বাজেট, তা বোঝাই যাচ্ছে না!” পাশাপাশি, নির্মলা দাবি করেন, বাংলা কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলো মানুষের কাছে পৌঁছাতে দিচ্ছে না।
বিজেপির ‘ডবল ইঞ্জিন’ তত্ত্ব: বাজেট বিতর্কে অংশ নিয়ে রাজ্যের বিজেপি সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya) দাবি করেন, খুব শীঘ্রই পশ্চিমবঙ্গ ‘ডবল ইঞ্জিন’ (Double Engine) সরকার দেখবে। তাঁর কথায়, “গঙ্গাসাগর থেকে গঙ্গোত্রী পর্যন্ত বিজেপির সরকার হবে।”
ডেরেকের অভিনব প্রতিবাদ: তৃণমূলের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও ব্রায়েন (Derek O’Brien) এদিন এক অভিনব কায়দায় কেন্দ্রকে আক্রমণ করেন। তিনি বাজেট নথিতে কয়েকটি নির্দিষ্ট শব্দ খুঁজতে বলেন—যেমন ‘মধ্যবিত্ত’, ‘বেকারত্ব’, ‘টাকার দরপতন’, ‘কৃষক আত্মহত্যা’, ‘পরিবেশ’, ‘সংখ্যালঘু’, ‘রেল সুরক্ষা’ এবং ‘যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো’। তাঁর অভিযোগ, এই শব্দগুলো বা এই সমস্যাগুলোর কোনো উল্লেখই বাজেটে নেই। ডেরেক সাফ জানান, “এই বাজেট দেশের বাস্তব সমস্যা থেকে মুখ ফিরিয়ে থাকা এক জনবিচ্ছিন্ন বাজেট।”
সামনেই ৫ রাজ্যে নির্বাচন। তাই নির্মলার এই জবাবি ভাষণকে অনেকে ভোটের প্রচারের অংশ হিসেবেই দেখছেন। অর্থনৈতিক যুক্তির চেয়ে রাজনৈতিক আক্রমণই কি তবে বাজেটের শেষ কথা হয়ে দাঁড়াল? প্রশ্নটা রেখে দিলেন বিরোধীরা।
