Susmita Das: ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত রাজ্যের মৃৎশিল্পীরা। টানা বৃষ্টির জেরে এক দিকে যেমন মাটির তৈরি সামগ্রী শুকোতে সমস্যা হচ্ছে, অন্য দিকে ভিজে যাচ্ছে তৈরি হয়ে রাখা মাটির পাত্র, প্রতিমা ও অন্যান্য শিল্পসামগ্রী। ফলে উৎসবের মরসুমে ব্যবসার মুখে অনিশ্চয়তার ছায়া নেমে এসেছে মৃৎশিল্পীদের মধ্যে। বহু শিল্পী ও কারিগর বৃষ্টির হাত থেকে তাঁদের তৈরি সামগ্রী রক্ষা করতে হিমশিম খাচ্ছেন।
মৃৎশিল্পীদের জীবিকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল মাটির সামগ্রী তৈরি, শুকোনো এবং পরে তা পোড়ানো। কিন্তু এই গোটা প্রক্রিয়াতেই আবহাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বৃষ্টির কারণে মাটি শুকোতে দেরি হলে উৎপাদন ব্যাহত হয়। তৈরি সামগ্রী ভিজে গেলে ফাটল ধরার পাশাপাশি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও থাকে। এর ফলে কাঁচামাল, শ্রম এবং সময়-সব ক্ষেত্রেই ক্ষতির মুখে পড়তে হয় শিল্পীদের।
বিশেষত যাঁরা বাড়ির উঠোন, খোলা জায়গা অথবা অস্থায়ী ছাউনিতে কাজ করেন, তাঁদের সমস্যাই বেশি। পর্যাপ্ত সংরক্ষণ ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির জল থেকে মাটির সামগ্রী রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে। অন্য দিকে, বাজারে নির্দিষ্ট সময়ে পণ্য সরবরাহ করতে না পারলে ব্যবসায়িক ক্ষতির সম্ভাবনাও বাড়ে।
মৃৎশিল্পীদের বক্তব্য, উৎসবের আগে এই সময়টিই তাঁদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে প্রতিমা, প্রদীপ, মাটির পাত্র-সহ বিভিন্ন সামগ্রী তৈরি করে বাজারে পাঠানোর প্রস্তুতি চলে। কিন্তু লাগাতার বৃষ্টিতে সেই কাজ ব্যাহত হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে। অনেকেরই আশঙ্কা, সময়মতো উৎপাদন শেষ করতে না পারলে ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ করা কঠিন হবে।
এই পরিস্থিতিতে মৃৎশিল্পীদের জন্য শুকনো কাজের জায়গা, সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার দাবি উঠছে। আবহাওয়ার উন্নতি না হলে আগামী দিনে তাঁদের আর্থিক সমস্যাও আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা। বৃষ্টির দাপটে মাটির শিল্পের সঙ্গে যুক্ত বহু পরিবারের জীবিকা এখন কার্যত অনিশ্চয়তার মুখে।

Recent Comments