পশ্চিম এশিয়ার (West Asia) পরিস্থিতি দিন দিন আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। ইজরায়েল (Israel) এবং আমেরিকার (America) সঙ্গে ইরান (Iran) -এর সংঘাত ইতিমধ্যেই এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। চারিদিকে শুধু বারুদের গন্ধ আর সাধারণ মানুষের হাহাকার। আর এই বারুদের স্তূপে নতুন করে ঘি ঢালতে চলেছে পাকিস্তান (Pakistan)। ইসলামাবাদ (Islamabad) থেকে এবার এমন এক জল্পনা উসকে দেওয়া হয়েছে যা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে রীতিমতো আলোড়ন ফেলে দিয়েছে। খবর অনুযায়ী, ইরানের (Iran) বিরুদ্ধে এবার হয়তো সরাসরি যুদ্ধে নামতে পারে পাকিস্তান (Pakistan)।
পাকিস্তানের (Pakistan) বিদেশমন্ত্রী ইশাক দার (Ishaq Dar) সম্প্রতি যে মন্তব্য করেছেন, তাতেই এই যুদ্ধের ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তিনি জানিয়েছেন যে, তাঁরা ইতিমধ্যে তেহরান (Tehran) -কে কড়া সতর্কবার্তা পাঠিয়েছেন। সৌদি আরব (Saudi Arabia) -এর ভূখণ্ডে যাতে কোনওভাবেই Missile বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা না চালানো হয়, সেই বিষয়ে ইরান (Iran) -কে স্পষ্ট ভাষায় নিষেধ করেছে ইসলামাবাদ (Islamabad)। এই ঘোষণার পরেই বিশ্বজুড়ে এক নতুন যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
কিন্তু কেন হঠাৎ সৌদি আরবের (Saudi Arabia) রক্ষাকর্তা হিসেবে অবতীর্ণ হতে চাইছে পাকিস্তান (Pakistan)? এর উত্তর লুকিয়ে আছে একটি বিশেষ দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মধ্যে। গত বছর ভারত (India) এবং পাকিস্তানের (Pakistan) মধ্যে যখন পহেলগাঁও (Pahalgam) জঙ্গি হামলার জেরে উত্তেজনা চরমে ওঠে এবং কাতারেও সংঘাত বাড়ে, ঠিক সেই সময়েই একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক চুক্তি স্বাক্ষর করে পাকিস্তান (Pakistan) এবং সৌদি আরব (Saudi Arabia)। এই চুক্তির মূল কথা হলো—যেকোনো এক দেশের ওপর আক্রমণ মানেই তা অন্য দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে ধরা হবে। সোজা কথায়, একজনের শত্রু অন্যজনেরও শত্রু। সবচেয়ে বড় চিন্তার বিষয় হলো, পাকিস্তান (Pakistan) একটি পরমাণু শক্তিধর দেশ। এই চুক্তির ফলে সৌদি আরব (Saudi Arabia) প্রয়োজনে পাকিস্তানের (Pakistan) সেই Nuclear power ব্যবহার করতে পারবে।
বর্তমানে ইরান (Iran) উপসাগরীয় এলাকাগুলিতে থাকা আমেরিকার (America) সামরিক ঘাঁটি এবং দূতাবাসগুলোর ওপর ক্রমাগত হামলা চালাচ্ছে। সৌদি আরবেও (Saudi Arabia) বেশ কয়েকটি টার্গেটে তারা হামলা চালিয়েছে বলে খবর। তবে পাকিস্তানের (Pakistan) দাবি, তাদের সাথে সৌদির এই সামরিক চুক্তির কথা মাথায় রেখেই ইরান (Iran) সেখানে বড়সড় হামলা করতে সাহস পাচ্ছে না। ইশাক দার (Ishaq Dar) সংবাদমাধ্যমের সামনে জানিয়েছেন, “আমি ওদের স্পষ্ট বুঝিয়েছি যে আমাদের একটি পৃথক চুক্তি রয়েছে।” তিনি আরও দাবি করেছেন যে, ইরান (Iran) নাকি তাদের কাছে আশ্বাস চেয়েছিল যাতে তাদের বিরুদ্ধে হামলার জন্য সৌদির মাটি ব্যবহার করা না হয়।
যুদ্ধ মানেই সাধারণ মানুষের প্রাণহানি আর সীমাহীন কষ্ট। পশ্চিম এশিয়ার (West Asia) এই যুদ্ধ পরিস্থিতি লক্ষ লক্ষ সাধারণ মানুষের জীবনকে এক চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দিয়েছে। এই যুদ্ধের প্রভাব কেবল রাজনৈতিক স্তরে সীমাবদ্ধ নেই, বিশ্ব অর্থনীতিতেও এর গভীর প্রভাব পড়ছে। হরমুজ প্রণালীতে (Strait of Hormuz) তেলের জাহাজ আটকে পড়ার খবর ইতিমধ্যেই সামনে আসছে, যার ফলে Oil crisis দেখা দেওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজার বা Global market রীতিমতো টলমল করছে।
এই পুরো ঘটনাপ্রবাহে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছে ভারত (India)। নয়াদিল্লি (New Delhi) -র সাথে সৌদি আরব (Saudi Arabia) -এর সম্পর্ক অত্যন্ত মধুর এবং বাণিজ্যিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, দশক পেরিয়ে গেলেও ইরান (Iran) বরাবরই ভারতের (India) এক বিশ্বস্ত মিত্র রাষ্ট্র হিসেবে বিপদে আপদে পাশে থেকেছে। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে ভারত (India) এক অদ্ভুত কূটনৈতিক সঙ্কটে পড়েছে। পশ্চিম এশিয়ায় (West Asia) শান্তি ফেরানোর কথা বললেও, আমেরিকা (America) ও ইজরায়েল (Israel) যেভাবে ইরানকে (Iran) আক্রমণ করেছে বা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই (Ayatollah Ali Khamenei) -কে হত্যা করেছে, তার সরাসরি কোনও নিন্দা করেনি নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) সরকার। এই নীরবতা দেশের ভেতরে ও বাইরে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, পাকিস্তান (Pakistan) যদি সত্যিই সৌদি আরবের (Saudi Arabia) হয়ে ইরানের (Iran) বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে, তবে ভারত (India) কী অবস্থান নেবে? একদিকে দীর্ঘদিনের বন্ধু ইরান (Iran), অন্যদিকে কৌশলগত মিত্র সৌদি আরব (Saudi Arabia)। এই জটিল অঙ্কে নয়াদিল্লি (New Delhi) কীভাবে ভারসাম্য বজায় রাখে, সেটাই এখন সারা বিশ্বের কাছে সবচেয়ে বড় কৌতূহলের বিষয়।
