অনিরুদ্ধ বসু
(সিইএসসি-র প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট, শংকরের দীর্ঘদিনের সহকর্মী)
‘স্যার’-এর প্রয়াণ খুব দুঃখের খবর। প্রাতিষ্ঠানিক ঘরানা অনুযায়ী আমি ওনাকে স্যর-ই বলতাম। সাহিত্যিক হিসেবে উনি আর পাঁচজনের মত আমারও আরাধ্য ছিলেন। আমি ওনার এতটাই গুণমুগ্ধ ছিলাম যে তা ভোলার নয়। ওনার ‘চৌরঙ্গী’ একাধিক বিদেশী ভাষায় অনুবাদ হয়ছে। প্রকৃতই যেন বাংলা সাহিত্যের অধুনা ভগীরথ ছিলেন।
১৯৮৪ সালে আমি সিইএসসি-তে যোগ দিই। কর্মজীবনে ওনার সাথে আমার আলাপ দু’দশকের ওপর। সাহিত্য জগতের মতই সাবলীল বিচরণ করতেন কর্পোরেট জগতে। কাজের ফাঁকে ফাঁকে এক অজানা শংকরকে আমি পেতাম। ওনার কাছে এই শহরের নানা আপাত-অজানা কাহিনি, বিখ্যাত মানুষদের কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতার কথা শুনতাম।
মাঝে মাঝে ভিক্টোরিয়া হাউসে আমি ওনার ঘরে যেতাম। আবার কখনও উনি আমার ঘরে একটু উঁকি মারতেন। সব সময় সেই হাসিমুখ। বিভিন্ন ব্যাপারে তাঁর প্রফেশনাল গাইডেন্স পেতাম।
২০০০ সালের দিকে আমি সংস্থার বিদ্যুৎ চুরি নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম দেখাশোনা করতাম। ঘটনাক্রমে আপন সাথেও তখনই আমার পরিচয়। সিইএসসি তাদের চুরি আটকানোর জন্য ব্যাপক কার্যক্রম নিয়েছিল। নিয়মিত খবর করতেন। আমাদের যোগাযোগ ধীরে ধীরে আরও বাড়তে থাকে। তখন আমি সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ ডিস্ট্রিবিউশন ডিভিশনে। ২০১৩ সালে সংস্থার এমডি-র দায়িত্ব নিই। এর পর প্রেসিডেন্ট। স্যার-এর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল।
ভাবতাম কীভাবে কোনও মানুষের এরকম বিশাল গ্রহণযোগ্যতা থাকতে পারে! আমি ভাগ্যবান, কাজের পরিসরে পারস্পরিক ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার একটা সুন্দর সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। অফিসে ৭ ডিসেম্বর ওনার জন্মদিন পালন হত। অনেকের মতো আমি তাতে অংশ নিতাম।
যেটা ভাবলে আজও ভালো লাগে, উনি কিন্তু ওনার মূলকে কোনওদিন ভোলেন নি। হাওড়ার শৈশব আর ছোটবেলার জীবনযুদ্ধের কথা বলতে বলতে উনি আবেগময় হয় পড়তেন। কী আর বলব? বাংলার একজন কিংবদন্তী চলে গেলেন। তার চেয়েও যেন বেশি সত্যি আমার অগ্রজ এক সহকর্মী চলে গেলেন। ওঁনার আত্মার শান্তি কামনা করি।
(অনুলেখন— অশোক সেনগুপ্ত)
আরও পড়ুনঃ https://bengali.newscope.press/amritaloke-shankar-this-departure-shook-my-heart/
