ক্রিকেট মাঠে কখন যে কী ঘটে যায়, তা আগে থেকে বলা বড়ই মুশকিল। কখনো কোনো অবিশ্বাস্য ক্যাচ, আবার কখনো অদ্ভুত রান আউট—দর্শকদের বিনোদনের কোনো অভাব থাকে না এই বাইশ গজে। তবে সম্প্রতি পাকিস্তান (Pakistan) ক্রিকেটের এক পরিচিত মুখ সলমান আলি আঘা (Salman Ali Agha) যেভাবে রান আউট হলেন, তা শুধু ক্রিকেট মাঠের গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। এই হাস্যকর আউটের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় এতটাই ভাইরাল হয়েছে যে, শেষ পর্যন্ত খোদ নিজের দেশের পুলিশের কাছেই তাঁকে তীব্র কটাক্ষের শিকার হতে হলো। নিউজস্কোপ বাংলার আজকের বিশেষ প্রতিবেদনে আমরা এই মজাদার এবং একইসাথে বিতর্কিত ঘটনাটির বিস্তারিত জেনে নেব।
ঘটনার সূত্রপাত একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ ঘিরে। ব্যাট করার সময় সলমান ক্রিজে ছিলেন, কিন্তু তাঁর মনোযোগ যেন ছিল মাঠের বাইরে অন্য কোথাও। বল ব্যাটে খেলার পর রান নেওয়ার জন্য তিনি দৌড় শুরু করেন ঠিকই, কিন্তু ক্রিজে পৌঁছানোর আগেই তিনি অত্যন্ত ধীরগতিতে হাঁটতে শুরু করেন। তিনি হয়তো ভেবেছিলেন যে বল ফিল্ডারের নাগালের অনেকটা বাইরে, অথবা ফিল্ডার সঠিক নিশানায় বল থ্রো করতে পারবেন না। কিন্তু তাঁর এই ‘ওভার কনফিডেন্স’ বা অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসই তাঁর কাল হলো। ফিল্ডার ক্ষিপ্রতার সঙ্গে বল কুড়িয়ে সরাসরি উইকেটে আঘাত হানেন। আর সলমান তখনো ক্রিজের দাগ থেকে বেশ কিছুটা দূরে, অলসভাবে হেঁটে আসছেন। এমন এক অদ্ভুত ও অসতর্ক রান আউট দেখে ধারাভাষ্যকার থেকে শুরু করে স্টেডিয়ামের দর্শকরা—সবাই রীতিমতো হতবাক হয়ে যান।
কিন্তু আসল নাটক শুরু হয় এই ম্যাচের ঠিক পর। সাধারণ ক্রিকেটপ্রেমীরা তো বটেই, এই ভিডিওতে নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানাতে ছাড়েনি সে দেশের ট্রাফিক পুলিশ বিভাগ। তারা নিজেদের অফিশিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল থেকে সলমানের এই আউটের ভিডিওটি শেয়ার করে এক অভিনব সচেতনতামূলক বার্তা দেয়। সেখানে ক্যাপশনে লেখা হয়, “রাস্তায় হোক বা ক্রিকেট পিচে, সব সময় সজাগ থাক! একটু অন্যমনস্ক হলেই বড় বিপদ ঘটে যেতে পারে।” পুলিশের এমন বুদ্ধিদীপ্ত এবং ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট মুহূর্তের মধ্যেই নেটিজেনদের নজর কাড়ে। হাজার হাজার মানুষ সেই পোস্টে লাইক ও কমেন্ট করতে শুরু করেন। অনেকেই মজা করে লেখেন যে, ট্রাফিক নিয়ম শেখানোর জন্য সলমান আলি আঘার এই রান আউটের চেয়ে নিখুঁত উদাহরণ আর হতেই পারে না!
তবে শুধু সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রোলড হয়েই পার পাননি এই তারকা ক্রিকেটার। মাঠে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের জন্য তাঁকে কড়া শাস্তির মুখেও পড়তে হয়েছে। টিম ম্যানেজমেন্ট এবং ম্যাচ রেফারি তাঁর এই অদ্ভুত আউটকে ‘খেলার স্পিরিট’ এবং পেশাদারিত্বের চূড়ান্ত অভাব বলে মনে করেছেন। ফলস্বরূপ, তাঁকে ম্যাচ ফির একটা বড় অংশ জরিমানা হিসেবে দিতে হয়েছে। শুধু তাই নয়, দলের কোচিং স্টাফদের তরফ থেকেও তাঁকে কড়া ভাষায় সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন অপেশাদার ও শিশুসুলভ আচরণ তিনি আর কখনো না করেন।


Recent Comments