ছেলের নাম রাজেশ আলি, বাবার নাম ভুবনচন্দ্র বেরা! ঘটনাস্থল পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়া পশ্চিম বিধানসভায় এসআইআর-এর আবেদনপত্র খতিয়ে দেখতে গিয়ে পর্যবেক্ষকদের হাতে এহেন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
এরপরেই এইআরও’র ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কীসের ভিত্তিতে এবং কেন এহেন সম্পর্কের তথ্য আপলোড করলেন এইআরও! বিশেষ করে কোনও নথি ছাড়াও কীভাবে লিঙ্ক করানো হল তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। আর এরপরেই এই ঘটনায় জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে পর্যবেক্ষকরা রিপোর্ট পাঠাচ্ছেন।
মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের একটা জেলায় ‘টু বি রিভিউড’ এমন ভোটারের সংখ্যা ছিল দেড় হাজার। বুধবার সকালেই সেই সংখ্যা পৌঁছয় প্রায় ৮ হাজারে! রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের দফতর অবশ্য মানতে নারাজ যে, এই ঘটনা শুধুমাত্র সংখ্যালঘু এলাকায় হচ্ছে বা সংখ্যালঘুদের নামের ক্ষেত্রেই বারবার ‘টু বি রিভিউড’ করা হচ্ছে।

কমিশনের কাছে এটা এখন বড় উদ্বেগের বিষয়। যে সমস্ত ভোটারের নথি ‘ফাউন্ড ওকে’ (অর্থাৎ সব নথি যাচাই হয়েছে) করে দিয়েছেন ইআরও-রা, তাঁদের অনেকের নামের ক্ষেত্রে ‘টু বি রিভিউড’ (অর্থাৎ রিভিউ করতে হবে) করে দেওয়া হচ্ছে রোল অবর্জাভারদের লগ-ইন থেকে। কারণ, তথ্যের অসঙ্গতি অজস্র।
রাজেশ আলি নামে যে ভোটারের নাম গোড়ায় লেখা হয়েছে, তার বাবার নাম ভুবনচন্দ্র বেরা। মা পুষ্পরানি বেরা, স্ত্রী সুমিত্রা রানি বেরা। বাড়ি নন্দনপুরে। কিন্তু রাজেশের বাবা যে ভুবন বা মা পুষ্পা বা স্ত্রী সুমিত্রা সে সব ব্যাপারে আর কোনও ডকুমেন্ট নেই। অর্থাৎ প্রমাণ হিসেবে কোনও নথি আপলোড হয়নি। অথচ এলাকার এইআরও (ERO) সেটিকে ‘ফাউন্ড ওকে’ (found ok) করে দিয়েছেন! মানে সব ঠিক আছে।
সিইও মনোজ আগরওয়াল বলেন,“যাঁরাই নির্দিষ্ট ১৩টি নথির বাইরে নথি জমা দিয়েছেন কিংবা লিংকড হওয়ার পর প্রমাণ দিতে পারেননি, কেবল তাঁদের ক্ষেত্রে ত্রুটি থাকার পরও ‘ফাউন্ড ওকে’ করলে এমন হলে হতে পারে।”
ইতিমধ্যে আরও একটি তথ্য সামনে এসেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, হাফিজুর রহমান হালদার নামের এক ব্যক্তির জন্মের ২ মাসে আগেই বার্থ সার্টিফিকেট রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে! নথি অনুযায়ী, তাঁর জন্ম হয়েছে ৩০ নভেম্বর, ১৯৯০ সালে আর বার্থ সার্টিফিকেট রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে ১৯৯০ সালের ২৩ অগাস্ট!

