১৮৯৭ সালের সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। বিশ্বধর্ম জয় করে বীর সন্ন্যাসী স্বামী বিবেকানন্দ (Swami Vivekananda) ফিরছেন নিজের শহরে। আজ ১২৯ বছর পরেও সেই উন্মাদনা অমলিন বাঙালির হৃদয়ে। স্বামীজির সেই ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনকে স্মরণীয় করে রাখতে আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (2026) বজবজ (Budge Budge) থেকে শিয়ালদহ (Sealdah) পর্যন্ত একটি বিশেষ ইএমইউ (EMU) স্পেশাল ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।
ইতিহাসের পাতায় সেই গৌরবময় দিনশিকাগোর ধর্মসভায় ভারতাত্মার বাণী প্রচার করে যখন স্বামীজি মাদ্রাজ (Madras) হয়ে বজবজে পা রাখেন, তখন চারিদিকে কেবল মানুষের ঢল। চিকিৎসকদের পরামর্শে শারীরিক অসুস্থতার কারণে জাহাজে প্রচুর ডাব বা নারকেল (Coconuts) মজুত রাখা হয়েছিল তাঁর জন্য। কিন্তু ত্যাগী সন্ন্যাসী সেই ডাব নিজে না খেয়ে অকাতরে বিলিয়ে দিয়েছিলেন সহযাত্রী ও বন্ধুদের মধ্যে। জাহাজে থাকাকালীন তাঁর তেজস্বী বক্তৃতা মুগ্ধ করেছিল সকলকে।
সেই সময় স্বামীজিকে অভ্যর্থনা জানাতে মহারাজা অফ দরভাঙ্গা (Maharaja of Darbhanga)-র নেতৃত্বে একটি বিশেষ কমিটি গঠিত হয়েছিল। ঠিক হয়েছিল, বজবজে পৌঁছানোর পরদিন একটি বিশেষ ট্রেনে করে তাঁকে শিয়ালদহ নিয়ে আসা হবে। ১৮৯৭ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি সকালে সেই ঐতিহাসিক ট্রেনটি বজবজ থেকে ছাড়ে।
শিয়ালদহ স্টেশনের সেই অভূতপূর্ব দৃশ্যসেদিন সকাল সাড়ে সাতটা। শিয়ালদহ (Sealdah) স্টেশনে তখন তিল ধারণের জায়গা নেই। প্রায় ২০,০০০ মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন তাঁদের প্রিয় ‘বিলে’কে দেখার জন্য। আমেরিকার সংবাদপত্রগুলোতে স্বামীজির সাফল্যের কাহিনী পড়ে তখন গোটা শহর আবেগে ফুটছে। ট্রেন যখন স্টেশনে ঢুকছে, তখন আকাশ-বাতাস কাঁপিয়ে ধ্বনি উঠছে— ‘জয় রামকৃষ্ণ পরমহংস দেব কী জয়’, ‘স্বামী বিবেকানন্দ কী জয়’।ভিড় সামলে তাঁকে যখন একটি ঘোড়ার গাড়িতে (Horse-pulled cart) তোলা হলো, ঘটল এক অবিশ্বাস্য কাণ্ড। আবেগে আপ্লুত ছাত্ররা ঘোড়াগুলিকে সরিয়ে দিয়ে নিজেরা সেই রশি টেনে গাড়ি নিয়ে চললেন শহরের পথে। সেই স্মৃতি আজও বাঙালির কাছে এক অনন্য Heritage।২০২৬-এর বিশেষ আয়োজনপূর্ব রেল (Eastern Railway) প্রতি বছরের মতো এবারও এই ঐতিহ্যের ধারা বজায় রাখছে।
আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (19 February, 2026) সকাল ০৯:৫৫ মিনিটে বজবজ (Budge Budge) স্টেশন থেকে বিশেষ ট্রেনটি ছাড়বে। এটি প্রতিটি স্টেশনে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষকে এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হওয়ার সুযোগ করে দেবে এবং সকাল ১০:৫২ মিনিটে শিয়ালদহ পৌঁছাবে।ভারতীয় দর্শন ও ধর্মকে বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দেওয়ার জন্য স্বামীজির যে অবদান, তাকে শ্রদ্ধা জানাতেই এই বিশেষ উদ্যোগ। বর্তমান প্রজন্মের কাছে স্বামীজির আদর্শ পৌঁছে দিতে এই ধরণের আয়োজন অত্যন্ত জরুরি।

