পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়া ঘিরে প্রশাসনিক জট কাটাতে নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিল সুপ্রিম কোর্ট অফ ইন্ডিয়া। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারকের বেঞ্চ বুধবার নির্দেশ দিয়েছে, ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রাপ্ত কিন্তু এখনও আপলোড না হওয়া যাচাইকৃত নথি ২৬ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫টার মধ্যে ইআরও ও এইআরও-র মাধ্যমে জুডিশিয়াল অফিসারদের হাতে তুলে দিতে হবে।
আদালত স্পষ্ট করেছে, জমা পড়া নথির ভিত্তিতে তথ্যগত অসঙ্গতি খতিয়ে দেখবেন কলকাতা হাই কোর্ট নিযুক্ত বিচারকরা। লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি নিষ্পত্তিতে বিচারক সংকট মেটাতে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে কমপক্ষে তিন বছরের অভিজ্ঞ সিভিল জজ (সিনিয়র ও জুনিয়র ডিভিশন) নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ড হাইকোর্টের সহায়তাও নেওয়া যেতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
ভোটারদের নথি সংক্রান্ত বিভ্রান্তিও দূর করেছে শীর্ষ আদালত। জন্মতারিখ ও অভিভাবকের নাম প্রমাণে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড বা পাশ/ফেল সার্টিফিকেট গ্রহণযোগ্য বলে জানানো হয়েছে। আদালতের দাবী, কোন পরিক্ষার্থী মাধ্যমিকে অকৃতকার্য হলেও তাকে একটি সার্টিফিকেট দেওয়া হয়। ফলে নথি জোগাড়ে সমস্যার আশঙ্কা কমল। নির্বাচন কমিশনের আবেদনের ভিত্তিতেই আগের নির্দেশে সামান্য সংশোধন করা হয়েছে বলে আদালতে জানানো হয়। ইতিমধ্যে হাইকোর্ট নিযুক্ত বিচারকদের ছুটি বাতিল করে নথি যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে। প্রশাসন ও রাজ্যের মধ্যে আস্থাহীনতার প্রেক্ষাপটে বিচার বিভাগের এই সক্রিয় ভূমিকা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন তাৎপর্য তৈরি করেছে।

