ভারতের মানুষের ঘুম ভাঙছে ‘Good Morning’ মেসেজে, আর রাত ফুরোচ্ছে চ্যাটিংয়ে। কিন্তু এই ভার্চুয়াল নেশার আড়ালে কি চুরি যাচ্ছে আমাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা? এই প্রশ্ন তুলেই এবার টেক জায়ান্ট Meta এবং তাদের জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ WhatsApp-কে তুলোধোনা করল ভারতের Supreme Court। শীর্ষ আদালতের কড়া পর্যবেক্ষণ—”দেশের মানুষকে নেশা ধরিয়ে দিয়ে তাদের ব্যক্তিগত তথ্য বা Data চুরি করা যাবে না। ভারতে ব্যবসা করতে হলে এদেশের আইন মেনেই করতে হবে।”
আদালতে কী হলো? একটি মামলার শুনানিতে Supreme Court-এর বিচারপতিরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “আপনারা ট্রিলিয়ন ডলারের কোম্পানি হতে পারেন, কিন্তু মানুষের গোপনীয়তার অধিকার (Right to Privacy) বাণিজ্যের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।” আদালতের পর্যবেক্ষণ, WhatsApp ব্যবহারকারীদের এক প্রকার নেশায় আসক্ত করে দিচ্ছে, আর তারপর কৌশলে তাদের তথ্য নিয়ে ব্যবসা করছে। এটি এক প্রকার প্রতারণার সামিল।
Meta-র যুক্তি ও আদালতের পাল্টা: WhatsApp-এর হয়ে সওয়াল করেন বিশিষ্ট আইনজীবী মুকুল রোহতগি (Mukul Rohatgi)। তিনি দাবি করেন, WhatsApp-এর মেসেজ সম্পূর্ণ ‘End-to-End Encrypted’ এবং ব্যবহারকারীদের খুব সামান্য ডেটাই Meta-র সঙ্গে শেয়ার করা হয়। কিন্তু বিচারপতিরা সেই যুক্তিতে সন্তুষ্ট হননি। তাঁরা প্রশ্ন তোলেন, যদি তথ্য সুরক্ষিতই থাকে, তবে ব্যক্তিগত চ্যাটে ওষুধের কথা লিখলে কেন সেই ওষুধের বিজ্ঞাপন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভেসে ওঠে? আদালতের মতে, সাধারণ মানুষের পক্ষে জটিল ‘Data Privacy Policy’ বোঝা সম্ভব নয়, আর কোম্পানিগুলো সেই সুযোগটাই নিচ্ছে।
মার্ক জাকারবার্গের পুরনো প্রসঙ্গ: এই শুনানির সময় উঠে এসেছে ২০১৮ সালে মার্কিন সেনেটে Meta কর্ণধার Mark Zuckerberg-এর সেই অস্বস্তিকর পরিস্থিতির কথা। যেখানে তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, “আপনি কাল রাতে কোন হোটেলে ছিলেন, সেটা কি সবার সামনে বলতে পারবেন?” জাকারবার্গ ‘না’ বলেছিলেন। অর্থাৎ, নিজের তথ্য গোপন রাখতে চাইলেও, কোটি কোটি মানুষের তথ্য নিয়ে ব্যবসা করছে তাঁর সংস্থা—এই দ্বিচারিতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে আদালত।
ভারতে কি WhatsApp বন্ধ হবে? কেন্দ্রীয় সরকারের নতুন IT Rules অনুযায়ী, তদন্তের স্বার্থে মেসেজের উৎস (Origin of Message) জানাতে বাধ্য থাকবে সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থাগুলো। কিন্তু WhatsApp জানিয়েছিল, এনক্রিপশন ভাঙলে ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা নষ্ট হবে, তাই তারা প্রয়োজনে ভারত ছেড়ে চলে যাবে। এবার Supreme Court-এর এই কড়া অবস্থানের পর প্রশ্ন উঠছে, তবে কি সত্যিই ভারত ছাড়তে হবে এই মেসেজিং অ্যাপকে? নাকি ভারতীয় আইন মেনে নতুন কোনো পথে হাঁটবে Meta?
বিশ্বের মধ্যে ভারতেই WhatsApp-এর ব্যবহারকারী সবচেয়ে বেশি। তাই ভারতের বাজার হারানো জাকারবার্গের জন্যও বড় ধাক্কা হবে। তবে শীর্ষ আদালতের এই বার্তা স্পষ্ট—’ডিজিটাল কলোনিয়ালিজম’ বা তথ্যের দখলদারি আর বরদাস্ত করা হবে না।
