নিজস্ব সংবাদদাতা, নিউজস্কোপ বাংলা: রাজ্যের অন্যতম হাই-প্রোফাইল এলাকা হিসেবে পরিচিত ভবানীপুর। আর এই ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের একেবারে প্রাণকেন্দ্র আলিপুরে আচমকাই তৈরি হলো চরম বিশৃঙ্খলা এবং উত্তেজনা। রাজনৈতিক ডামাডোল এবং পুলিশি হস্তক্ষেপে রীতিমতো রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় গোটা এলাকা। আর এই ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই তড়িঘড়ি সেখানে ছুটে যান পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal) বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে পৌঁছানোর পর পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার বদলে আরও ঘোরালো হয়ে ওঠে। উপস্থিত কলকাতা (Kolkata) পুলিশের আধিকারিকদের সঙ্গে তীব্র বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন নন্দীগ্রামের বিধায়ক।
ঠিক কী ঘটেছিল আলিপুরে?
নিউজস্কোপ বাংলার গ্রাউন্ড জিরো রিপোর্ট অনুযায়ী, সকাল থেকেই আলিপুর চত্বরে একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে চাপা উত্তেজনা ছিল। স্থানীয় সূত্রের খবর, বিরোধী শিবিরের কয়েকজন কর্মী-সমর্থক এলাকায় জমায়েত করার চেষ্টা করলে বাধা দেয় পুলিশ। প্রশাসনের দাবি, ওই জমায়েতের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া হয়নি। অন্যদিকে, কর্মীদের অভিযোগ, শাসক দলের নির্দেশে পুলিশ ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগে বাধা দিচ্ছে। এই নিয়ে সাধারণ কর্মী-সমর্থক এবং পুলিশের মধ্যে প্রথমে ধাক্কাধাক্কি এবং পরে তুমুল উত্তেজনা ছড়ায়। খবর চাউর হতেই স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দোকানপাট বেশ কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ হয়ে যায়।
ঘটনাস্থলে শুভেন্দু অধিকারী ও পুলিশের সঙ্গে বচসা
আলিপুরে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের এই খণ্ডযুদ্ধের খবর পৌঁছায় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর কাছে। খবর পেয়ে মুহূর্তের মধ্যে নিজের কনভয় নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছন তিনি। গাড়ি থেকে নেমেই তিনি সোজা এগিয়ে যান কর্তব্যরত পুলিশ আধিকারিকদের দিকে। কেন বিরোধী দলের কর্মীদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তাদের সরাসরি প্রশ্ন করতে শুরু করেন তিনি।
আমাদের প্রতিনিধি ঘটনাস্থল থেকে জানান, শুভেন্দুবাবুকে রীতিমতো ক্ষুব্ধ মেজাজে দেখা যায়। তিনি আঙুল উঁচিয়ে পুলিশ আধিকারিকদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা নিরপেক্ষভাবে কাজ করছেন না। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা দেওয়ার বদলে আপনারা একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের ক্যাডার হিসেবে কাজ করছেন।” পুলিশ আধিকারিকরা পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলেও, বিরোধী দলনেতা নিজের অবস্থানে অনড় থাকেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, রাজ্যে কোথাও বিরোধীদের কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি করতে দেওয়া হচ্ছে না এবং প্রশাসনকে ব্যবহার করে কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা চলছে। বেশ কিছুক্ষণ ধরে এই বচসা চলতে থাকে, যা ঘিরে এলাকায় ভিড় আরও বাড়তে শুরু করে।


Recent Comments