নিজস্ব সংবাদদাতা: শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতী আজ সাক্ষী থাকল এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের। ১৯২৬ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর ইতালি সফরের শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত হলো এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান। সাংস্কৃতিক বিনিময়ের সেই ঐতিহাসিক যাত্রাকে স্মরণ করতে উপস্থিত ছিলেন ইতালির উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরাও, যা অনুষ্ঠানের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তোলে।
তবে আন্তর্জাতিক এই আয়োজনের আড়ালে ধরা পড়ল এক বাস্তব সমস্যার চিত্র। অতিথিদের আপ্যায়নের জন্য বিপুল পরিমাণ রান্নার ব্যবস্থা করতে গিয়ে পড়তে হয় গ্যাস সংকটে। ফলে আধুনিক রান্নার ব্যবস্থা ছেড়ে বাধ্য হয়েই কাঠের উনুনে ভরসা রাখতে হয় আয়োজকদের।
বোলপুরের একটি ক্যাটারিং সংস্থার কর্ণধার জানান, এলাকাজুড়ে তীব্র গ্যাসের অভাব চলছে। বাজারে পর্যাপ্ত গ্যাস না মেলায় এমনকি বেশি দাম দিয়েও চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হয়নি। এই পরিস্থিতিতে বিকল্প হিসেবে কাঠ ব্যবহার করেই রান্না করতে হয়েছে। তার মতে, এতে একদিকে যেমন খরচ কিছুটা কমেছে, তেমনি খাবারের স্বাদেও এসেছে ভিন্নতা।
তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক দায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষ করে একটি কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনার ঝড় উঠেছে গোটা শান্তিনিকেতন জুড়ে।
সমস্ত বাধা-বিপত্তি সত্ত্বেও, রবীন্দ্র-ঐতিহ্যের এই বিশেষ উদযাপন ঘিরে উৎসাহ ও আবেগে ভাটা পড়েনি। বরং ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির মিলনে দিনটি স্মরণীয় হয়ে রইল শান্তিনিকেতনের ইতিহাসে।

Recent Comments