Sushmita Sengupta: ‘দিমাগি নকশাল’ কথাটি নিয়ে দেশের রাজনীতিতে নতুন করে তর্ক শুরু হয়েছে। স্বাধীনতা দিবসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই শব্দ ব্যবহার করার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে কথা কাটাকাটি চলছে।
কংগ্রেস নেতা পি চিদম্বরম রবিবার এই বিষয় নিয়ে নিজের মত জানান। তিনি বলেন, তাঁকে যদি ‘দিমাগি নকশাল’ বলা হয়, তাহলে তিনি এতে গর্বিত। তাঁর এই মন্তব্যের পরেই রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।
চিদম্বরমের এই কথার জবাব দেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বিরোধী দলের নেতাদের ‘দিমাগি নকশাল’ বলেননি। রিজিজুর দাবি, এই শব্দটি কিছু নির্দিষ্ট মানুষের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে।
রিজিজু বলেন, যারা মাওবাদীদের সমর্থন করে, তাদের নিয়ে এই কথা বলা হয়েছে। এছাড়াও যারা ভারতের সংবিধান মানতে চায় না, তাদের নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, যারা দেশের মধ্যে আলাদা দেশ বা আলাদা অঞ্চল তৈরির কথা বলে, তাদের নিয়েও এই মন্তব্য করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, এই ধরনের চিন্তাকে সমর্থন করা দেশের জন্য ভালো নয়।
এরপর চিদম্বরমের মন্তব্য নিয়ে বিজেপির আরও কয়েকজন নেতা কংগ্রেসকে আক্রমণ করেন। বিজেপির নেতাদের দাবি, চিদম্বরমের এই মন্তব্য ঠিক নয়। তাঁদের মতে, প্রধানমন্ত্রী কোনও নির্দিষ্ট কংগ্রেস নেতাকে এই নামে ডাকেননি।
অন্যদিকে কংগ্রেসের বক্তব্য, সরকারের বিরুদ্ধে কথা বললেই কাউকে ‘নকশাল’ বলা ঠিক নয়। বিরোধী দলের নেতাদের নিজেদের মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে বলেও কংগ্রেসের নেতারা দাবি করছেন।
এই বিতর্কের শুরু হয় স্বাধীনতা দিবসে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের পর। লালকেল্লা থেকে ভাষণ দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী দেশে নকশালপন্থী চিন্তা নিয়ে সতর্ক করেন। এরপরই ‘দিমাগি নকশাল’ কথাটি নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়।
চিদম্বরমের মন্তব্যের পর রিজিজুর পাল্টা জবাব এই বিতর্ককে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এখন বিজেপি ও কংগ্রেস দুই দলই নিজেদের বক্তব্য নিয়ে সামনে এসেছে। আগামী দিনে এই বিষয় নিয়ে আরও রাজনৈতিক কথা কাটাকাটি হয় কি না, এখন সেটাই দেখার।

Recent Comments