বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীর দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবার সরেজমিনে অভিযানে নামলেন মালদার জেলাশাসক রাজেনবীর সিং কাপুর। মঙ্গলবার সকাল সকাল জেলা প্রশাসনের একাধিক আধিকারিককে সঙ্গে নিয়ে মালদা শহরের বিভিন্ন বাজার ও পাইকারি বিক্রয়কেন্দ্রে ঘুরে দেখেন তিনি। খুচরো ও পাইকারি বাজারে বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রীর বর্তমান দাম কত, কোথাও নির্ধারিত দামের তুলনায় বেশি টাকা নেওয়া হচ্ছে কি না—সেই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখেন জেলাশাসক।
এদিন প্রথমে মালদা শহরের নেতাজি পৌরবাজারে পৌঁছন জেলাশাসক। সেখানে বিভিন্ন দোকানে গিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম সম্পর্কে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে তথ্য নেন। এরপর রথবাড়ি মোড়ের সবজি বাজারেও পরিদর্শন করেন তিনি। বাজারে পেঁয়াজ, রসুন, আদা-সহ বিভিন্ন সবজির খুচরো দাম সম্পর্কে খোঁজ নেন। পাশাপাশি ক্রেতাদের কাছ থেকেও বাজারদর নিয়ে কোনও অভিযোগ রয়েছে কি না, সে বিষয়ে জানার চেষ্টা করেন প্রশাসনের আধিকারিকরা।
এরপর বম্বে রোড এলাকায় অবস্থিত বিভিন্ন পাইকারি দোকানেও অভিযান চালানো হয়। সেখানে চিনি, আটা, ময়দা এবং ভোজ্য তেলের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীর পাইকারি দর খতিয়ে দেখেন জেলাশাসক। পাইকারি বাজারে কী দামে পণ্য বিক্রি হচ্ছে এবং সেই অনুযায়ী খুচরো বাজারে তার দাম কত রাখা হচ্ছে, তা নিয়েও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
অভিযান শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জেলাশাসক রাজেনবীর সিং কাপুর জানান, এদিনের পরিদর্শনে সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতি ঠিকঠাকই নজরে এসেছে। তাঁর দাবি, বর্তমানে সবজি ও আনাজপাতির দাম আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে। তবে বাজারদর আরও নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসনের নজরদারি জারি থাকবে।
জেলাশাসকের কথায়, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম যাতে অযথা না বাড়ে এবং সাধারণ মানুষকে অতিরিক্ত দামে জিনিসপত্র কিনতে না হয়, সে বিষয়েই প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। তাই আগামী দিনেও বিভিন্ন বাজারে এ ধরনের অভিযান ও নজরদারি চালানো হবে। ধারাবাহিকভাবে বাজার পরিদর্শন করা হলে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম আরও কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসবে বলেই আশা জেলা প্রশাসনের।
প্রশাসনের এই আকস্মিক বাজার পরিদর্শনে ব্যবসায়ী মহলেও তৎপরতা দেখা যায়। অন্যদিকে, বাজারদর নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের সরাসরি নজরদারিকে স্বাগত জানিয়েছেন সাধারণ ক্রেতারাও।


Recent Comments