ফেব্রুয়ারি মানেই প্রেমের মাস। সরস্বতী পুজোয় ‘বাঙালির ভ্যালেন্টাইন্স ডে’ পালন হয়ে গেছে, এবার পালা বিশ্বজনীন প্রেম দিবস বা ১৪ই ফেব্রুয়ারির। আর তার ১০ দিন আগেই তিলোত্তমার বাজারে প্রেমের রঙে মিশছে দুশ্চিন্তার কালো ছায়া। নিউ মার্কেট থেকে মল্লিকঘাট—সর্বত্রই ফুল এবং উপহারের দাম আকাশছোঁয়া। বিশেষ করে প্রেমের প্রতীক লাল গোলাপের চাহিদা তুঙ্গে, আর সেই সুযোগেই দাম চড়ছে হু হু করে।
গোলাপ যখন কাঁটা: আজ সকালে নিউ মার্কেটের ফুলের দোকানগুলোতে গিয়ে দেখা গেল, একটি ভালো মানের দীর্ঘ ডাঁটিযুক্ত লাল গোলাপ (Dutch Rose) বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়! সাধারণ দেশি গোলাপের দামও ৩০-৪০ টাকার নিচে নামছে না। বিক্রেতা রতন মালি বললেন, “দাদা, আমাদের কিছু করার নেই। ব্যাঙ্গালোর আর পুনে থেকে যে গোলাপ আসে, তার সাপ্লাই এবার কম। শীতের শেষে ফলন মার খেয়েছে, তাই পাইকারি বাজারেই দাম বেশি।”
শুধু গোলাপ নয়, অর্কিড, লিলি বা জারবেরার দামও গত বছরের তুলনায় প্রায় ৩০-৪০ শতাংশ বেশি। কলেজ স্ট্রিটের এক ছাত্র সায়ন্তন হাসতে হাসতে বলল, “গার্লফ্রেন্ডকে গোলাপ দিতে গেলে তো এবার পকেটমানি শেষ হয়ে যাবে! ভাবছি রজনীগন্ধা দিয়েই কাজ চালাব।”
টেডি আর চকোলেটের দাপট: ফুলের পাশাপাশি উপহারের দোকানগুলোতেও ভিড় জমাতে শুরু করেছেন তরুণ-তরুণীরা। নিউ মার্কেটের হগ মার্কেটে টেডি বিয়ার, হার্ট শেপের কুশন এবং পারফিউম বিক্রি হচ্ছে দেদার। তবে সেখানেও জিএসটি এবং কাঁচামালের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে জিনিসের দাম বেশ চড়া। একটি মাঝারি সাইজের টেডি বিয়ারের দাম শুরু হচ্ছে ৮০০ টাকা থেকে, যা গত বছর ৫০০-৬০০ টাকার মধ্যে ছিল।
শহর রঙিন হতে প্রস্তুত: দাম বাড়লেও আবেগে ভাটা পড়েনি। পার্ক স্ট্রিট, প্রিন্সেপ ঘাট বা ইকো পার্ক—শহরের ‘লাভার্স পয়েন্ট’গুলোতে এখনই বিকেলের ভিড় বাড়ছে। রেস্তোরাঁগুলোও সাজছে ভ্যালেন্টাইন্স স্পেশাল মেনু নিয়ে। তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, প্রেমের এই মরশুম আসলে বাজারের জন্যও বসন্তকাল। ফুলচাষী থেকে গিফট শপের মালিক—সবারই আয়ের একটা বড় অংশ আসে এই ফেব্রুয়ারি মাসে।
পকেটে টান পড়লেও, ভালোবাসার দিনে প্রিয়জনের মুখে হাসি ফোটাতে কার্পণ্য করতে নারাজ কল্লোলিনী কলকাতা। গোলাপের কাঁটা বা দামের ছ্যাঁকা—কোনোটাই আটকাতে পারবে না ফাগুনের এই আগুনকে।
