২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতেই রাজ্যের প্রশাসনিক তৎপরতা এখন তুঙ্গে। গত ১৬ মার্চ নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার পর থেকেই সমগ্র রাজ্যজুড়ে জারি হয়েছে আদর্শ আচরণবিধি (Model Code of Conduct)। ভোট অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করতে কোমর বেঁধে ময়দানে নেমেছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)। সম্প্রতি কলকাতার (Kolkata) এন.এস রোড (N.S. Road) স্থিত মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (Chief Electoral Officer) দফতর থেকে জারি করা একটি রিপোর্টে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য।
কড়া নজরদারিতে স্পেশাল টিম (Special Teams)
রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রেই (Assembly Constituencies) যাতে নিয়মমাফিক ভোট প্রক্রিয়া চলে, তার জন্য বিশেষ নজরদারি দল মোতায়েন করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী, বর্তমানে রাজ্যজুড়ে ৮৮২টি ফ্লাইং স্কোয়াড টিম (Flying Squad Teams – FST) সক্রিয় রয়েছে। প্রতি বিধানসভা কেন্দ্রে গড়ে ৩টি করে এই দল কাজ করছে। আমজনতা যাতে সরাসরি অভিযোগ জানাতে পারেন, তার জন্য ‘সি-ভিজিল’ (cVigil) অ্যাপের মাধ্যমে আসা প্রতিটি অভিযোগ খতিয়ে দেখছে এই বিশেষ টিমগুলি।পাশাপাশি, ১,২৪০টি চিহ্নিত চেক-পোস্টে কাজ করছে ৮৮২টি স্ট্যাটিক সারভেইল্যান্স টিম (Static Surveillance Teams – SST)। মূলত বেআইনি নগদ অর্থ আদান-প্রদান এবং ভোটারদের প্রভাবিত করতে পারে এমন সামগ্রী আটকাতেই এই কড়া তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
দেওয়াল লিখন ও পোস্টার অপসারণ
ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশের প্রথম ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই রাজ্যজুড়ে সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তি থেকে অননুমোদিত রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন এবং পোস্টার সরানোর কাজ প্রায় শেষ করা হয়েছে। কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ যাবৎ মোট ৩,০৭,০৯৩টি ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২,৮৭,৩৬৩টি সরকারি সম্পত্তি এবং ১১,০১৪টি বেসরকারি জায়গা থেকে রাজনৈতিক প্রচার সামগ্রী মুছে ফেলা হয়েছে।জেলাভিত্তিক তালিকার দিকে নজর দিলে দেখা যাচ্ছে:
কোচবিহার (Cooch Behar): ২৯,৯৯৭টি ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
উত্তর ২৪ পরগনা (North 24 Parganas): ২৭,০৫৮টি বিজ্ঞাপন সরানো হয়েছে।
পূর্ব মেদিনীপুর (Purba Medinipur): ২৭,৮০১টি ক্ষেত্রে পদক্ষেপ করা হয়েছে।
কলকাতা দক্ষিণ (Kolkata South) ও উত্তর (Kolkata North): যথাক্রমে ৬,৫৪০ এবং ৫,৮২১টি দেওয়াল লিখন ও পোস্টার পরিষ্কার করা হয়েছে।
বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মাদক উদ্ধার (Seizures)ভোটের মুখে কালো টাকার ব্যবহার রুখতে রেকর্ড সাফল্য পেয়েছে কমিশন। গত ১৬ মার্চ থেকে ২০ মার্চের মধ্যে সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে মোট ৪১১.৫০ লক্ষ টাকার সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এর বিস্তারিত হিসাব নিচে দেওয়া হলো:
সামগ্রী পরিমাণ মূল্য (Cumulative)
নগদ অর্থ (Cash) ১২৫.৪০ লক্ষ টাকা
মদ (Liquor) ১৮,৪৫০.৫০ লিটার (মূল্য ৬২.৩০ লক্ষ টাকা)
মাদক দ্রব্য ২৫.৪০ কেজি (মূল্য ৯৫.৬০ লক্ষ টাকা)
মূল্যবান ধাতু ১.২০ কেজি (মূল্য ৮২.৫০ লক্ষ টাকা)
উপহার সামগ্রী ৪৫.৭০ লক্ষ টাকা
নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় এবং একটি স্বচ্ছ নির্বাচনী পরিবেশ তৈরিতে কোনো রকম আপস করা হবে না। অবৈধ লেনদেন বা আচরণবিধি ভঙ্গের খবর পেলেই কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


Recent Comments