back to top
Sunday, April 12, 2026
Leaderboard Ad Space (728x90) - Responsive
Homeরাজ্য ও রাজনীতি২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ নির্ঘণ্ট প্রকাশ: রাজ্যে এবার দু'দফায় ভোট

২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ নির্ঘণ্ট প্রকাশ: রাজ্যে এবার দু’দফায় ভোট

অবশেষে সমস্ত জল্পনা ও প্রতীক্ষার অবসান ঘটল। রবিবার নয়াদিল্লির (New Delhi) বিজ্ঞান ভবন (Vigyan Bhavan) থেকে এক বিশেষ সাংবাদিক বৈঠকের মাধ্যমে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের (Assembly Election) পূর্ণাঙ্গ নির্ঘণ্ট প্রকাশ করল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও আগামী নির্বাচনকে ঘিরে কৌতূহলের শেষ ছিল না। কমিশন জানিয়েছে, এবার পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal) সহ মোট চারটি রাজ্য এবং একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভোটগ্রহণ হতে চলেছে। বাংলা ছাড়াও এই তালিকায় রয়েছে আসাম (Assam), কেরালা (Kerala), তামিলনাড়ু (Tamil Nadu) এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরি (Puducherry)।

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নির্বাচন সবসময়ই একটি উৎসবের মতো। রাজনৈতিক মহলের নজর এখন বাংলার দিকে। এবার নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে রাজ্যে মোট দু’দফায় ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে। গত কয়েকটি নির্বাচনের দীর্ঘ দফার বদলে এবার মাত্র দুটি দফায় ভোট সম্পন্ন করার এই সিদ্ধান্তকে প্রশাসনিক দিক থেকে একটি অত্যন্ত কার্যকরী ও বড় পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।

একনজরে নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ দিনক্ষণ: রাজ্যে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ হবে আগামী ২৩ এপ্রিল এবং দ্বিতীয় বা শেষ দফার ভোট হবে ২৯ এপ্রিল। এরপর আগামী ৪ মে সারা রাজ্য এবং দেশের অন্যান্য প্রান্তের সাথে একসঙ্গে ভোট গণনা বা ফলাফল প্রকাশ করা হবে।

মনোনয়ন জমার বিস্তারিত সূচি: প্রথম দফার জন্য প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে ৬ এপ্রিল। পরের দিন, অর্থাৎ ৭ এপ্রিল হবে মনোনয়ন পত্রের স্ক্রুটিনি বা পরীক্ষা। প্রার্থীরা চাইলে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত তাদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিতে পারবেন। অন্যদিকে, দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ধার্য করা হয়েছে ৯ এপ্রিল। ১০ এপ্রিল স্ক্রুটিনির পর ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত মনোনয়ন প্রত্যাহারের সুযোগ থাকছে রাজনৈতিক দল ও নির্দল প্রার্থীদের কাছে।

কোন দফায় কোথায় ভোট?

প্রথম দফা (২৩ এপ্রিল): প্রথম দফায় মূলত উত্তরবঙ্গের জেলাগুলি এবং দক্ষিণবঙ্গের পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে ভোটগ্রহণ হবে। এর মধ্যে রয়েছে কোচবিহার (Cooch Behar)-এর ৯টি আসন, আলিপুরদুয়ার (Alipurduar)-এর ৫টি আসন, জলপাইগুড়ি (Jalpaiguri)-এর ৭টি আসন, দার্জিলিং (Darjeeling) ও কালিম্পং (Kalimpong) মিলিয়ে ৬টি আসন, উত্তর দিনাজপুর (North Dinajpur)-এর ৯টি আসন, দক্ষিণ দিনাজপুর (South Dinajpur)-এর ৬টি আসন এবং মালদহ (Malda)-এর ১২টি আসন। এছাড়াও এই দফায় ভোট হবে মুর্শিদাবাদ (Murshidabad)-এর ২২টি আসনে। পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে পূর্ব মেদিনীপুর (East Medinipur)-এর ১৬টি, পশ্চিম মেদিনীপুর (West Medinipur) ও ঝাড়গ্রাম (Jhargram) মিলিয়ে ১৯টি, পুরুলিয়া (Purulia)-এর ৯টি এবং বাঁকুড়া (Bankura)-এর ১২টি আসনে ভোট হবে প্রথম দিনেই।

আরো পড়ুন:  'কমিশনের এত রদবদলে রাজ্যের কাজে ধাক্কা', একাধিক অভিযোগে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে কড়া চিঠি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

দ্বিতীয় দফা (২৯ এপ্রিল): বাকি জেলাগুলিতে নির্বাচন হবে দ্বিতীয় দফায়। এই তালিকায় রয়েছে নদিয়া (Nadia)-এর ১৭টি আসন, উত্তর ২৪ পরগনা (North 24 Parganas)-এর ৩৩টি আসন এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা (South 24 Parganas)-এর ৩১টি আসন। রাজ্যের রাজধানী কলকাতা (Kolkata)-র ১১টি আসনেও ভোট হবে এই দিন। এর পাশাপাশি হাওড়া (Howrah)-এর ১৬টি, হুগলি (Hooghly)-এর ১৮টি, পূর্ব বর্ধমান (East Bardhaman)-এর ১৬টি এবং পশ্চিম বর্ধমান (West Bardhaman)-এর ৯টি আসনে দ্বিতীয় দফায় নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন সাধারণ মানুষ।

নিরাপত্তা ও অন্যান্য প্রস্তুতি: এবারের নির্বাচন হতে চলেছে তীব্র গরমের মধ্যে। এপ্রিল মাসের চড়া রোদ এবং ভ্যাপসা গরমের কথা মাথায় রেখে নির্বাচন কমিশন প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে পানীয় জল, পর্যাপ্ত ছায়া এবং প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা রাখার নির্দেশ দিয়েছে। বয়স্ক এবং ভিন্নভাবে সক্ষম ভোটারদের জন্য বিশেষ সুবিধার কথাও বলা হয়েছে। রাজ্যে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট সুনিশ্চিত করতে ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় বাহিনী (Central Forces) মোতায়েনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে রুট মার্চ (Route March) চলছে। সাধারণ ভোটারদের মনে সাহস জোগাতে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কমিশন জিরো টলারেন্স (Zero Tolerance) নীতি গ্রহণ করেছে।

শহরাঞ্চল থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রাম—সর্বত্রই এখন আলোচনার মূল বিষয়বস্তু হলো এই ভোট। চায়ের দোকান থেকে লোকাল ট্রেন, সর্বত্র চলছে রাজনৈতিক সমীকরণের চুলচেরা বিশ্লেষণ। দীর্ঘ মেয়াদী ভোটের বদলে দ্রুত নির্বাচন শেষ হলে রাজনৈতিক হিংসার ঘটনাও কমবে বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল। রাজ্যের প্রতিটি নাগরিককে নির্ভয়ে এবং স্বাধীনভাবে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

Author

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Demo Ad
Sponsored Links

Most Popular

Recent Comments