রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের জন্য এক বিরাট সুখবর নিয়ে এল এই সপ্তাহান্ত। দীর্ঘদিনের আইনি লড়াই ও প্রতীক্ষার পর অবশেষে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (DA) নিয়ে বড়সড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Chief Minister Mamata Banerjee)। আসন্ন নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে, রবিবার নিজের এক্স (X) হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করে তিনি এই স্বস্তির বার্তা দেন। সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) নির্দেশিকা মেনে চলতি মার্চ (March) মাসেই রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ মেটানোর প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। এই ঘোষণায় স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বসিত পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal) রাজ্যের লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মচারী, শিক্ষক, অশিক্ষক কর্মী এবং পেনশনাররা।
দীর্ঘদিন ধরেই বকেয়া ডিএ-র দাবিতে সরব ছিলেন রাজ্য সরকারি কর্মীরা। কলকাতা (Kolkata) হাই কোর্ট আগেই রাজ্যকে বকেয়া ডিএ মেটানোর নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু রাজ্য সরকার সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়। সেখানেও রাজ্যকে বকেয়া ২৫ শতাংশ ডিএ মিটিয়ে দেওয়ার জন্য প্রথমে ৬ সপ্তাহ সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বকেয়া মেটানো সম্ভব হয়নি। উল্টে রাজ্যের তরফে অতিরিক্ত ৬ মাস সময় চেয়ে আবেদন করা হয়। ভারত (India) -এর অন্যতম চর্চিত এই আইনি মামলায় শেষমেশ গত ৫ ফেব্রুয়ারি শীর্ষ আদালতের বিচারপতি সঞ্জয় করোল (Sanjay Karol) এবং বিচারপতি মনোজ মিশ্রের (Manoj Misra) বেঞ্চ একটি স্পষ্ট ও কড়া নির্দেশিকা জারি করে। আদালত সাফ জানিয়ে দেয় যে, ডিএ সরকারি কর্মচারীদের আইনি অধিকার এবং এই বকেয়া তাদের দিতেই হবে।
শীর্ষ আদালতের নির্দেশিকায় বলা হয়েছিল, মে মাসের মধ্যে দু’টি কিস্তিতে বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ মেটাতে হবে। যার প্রথম কিস্তিটি সরকারি কর্মীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছবে ৩১ মার্চের মধ্যে। বাকি বকেয়ার অংশ কবে এবং কীভাবে দেওয়া হবে, তা ঠিক করতে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার (Indu Malhotra) নেতৃত্বাধীন একটি কমিটি গঠন করা হয়।
রাজ্য সরকারের তরফ থেকে আদালতে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল যে, ৩ লক্ষ ১৭ হাজারেরও বেশি কর্মীর নথি খতিয়ে দেখার কাজ বাকি রয়েছে। বিশেষ করে ২০১৬ সালের আগের নথিগুলি ডিজিট্যাল (Digital) ফর্মে নেই। পুরনো সার্ভিস বুকের হাতে লেখা নথিগুলিকে ডিজিটাইজ করতে যথেষ্ট সময় লাগছে। তাছাড়া প্রশাসনিক আধিকারিকদের অভাবের কথাও উল্লেখ করে প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণ দর্শানো হয়েছিল। এই যুক্তিতে বকেয়া পরিশোধের সময়সীমা বৃদ্ধির আর্জি জানালেও, শেষ পর্যন্ত সরকারি কর্মীদের পক্ষেই রায় যায়।
এই টালবাহানার জেরে সরকারি কর্মীদের মধ্যে হতাশা ক্রমশ বাড়ছিল। এমনকী, নিজেদের দাবিদাওয়া আদায়ের লক্ষ্যে প্রতিবাদে গত শুক্রবার একটি ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিল সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। যদিও সেই ধর্মঘটের প্রভাব খুব একটা পড়েনি, তবু কর্মীদের ক্ষোভ অত্যন্ত স্পষ্ট ছিল। অবশেষে সমস্ত জল্পনা ও উৎকণ্ঠার অবসান ঘটিয়ে রবিবার মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণা রাজ্যের কর্মীদের কাছে এক বড় স্বস্তি হিসেবেই উঠে এসেছে।
সামনেই মহারণ, অর্থাৎ বিধানসভা নির্বাচন। ভোটের দামামা বাজার ঠিক আগ মুহূর্তে মুখ্যমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। রাজ্যের মা-মাটি-মানুষের সরকার যে সবসময় কর্মচারীদের পাশে আছে, তা প্রমাণ করতেই এই দ্রুত পদক্ষেপ বলে দাবি শাসকদলের। মুখ্যমন্ত্রী তাঁর পোস্টে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী থেকে শুরু করে গ্রান্ট-ইন-এইড প্রতিষ্ঠানগুলির কর্মীদের কাছে প্রতিশ্রুতি পূরণে সরকার বদ্ধপরিকর।

Recent Comments