সারা দেশজুড়ে ২০ মে ওষুধ বিক্রেতাদের ধর্মঘটের ডাক ঘিরে উদ্বেগ তৈরি হলেও পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর মিলেছে। ধর্মঘটের দিনও রাজ্যের বেশ কিছু ওষুধের দোকান খোলা থাকবে বলে জানা গিয়েছে। বিশেষ করে হাসপাতাল সংলগ্ন মেডিসিন শপ, বড় ফার্মেসি চেন, জন ঔষধি কেন্দ্র এবং AMRIT ফার্মেসিগুলি পরিষেবা চালু রাখবে।
অল ইন্ডিয়া অর্গানাইজ়েশন অফ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট (AIOCD) ই-ফার্মেসির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে এই ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। সংগঠনের দাবি, অনলাইন ওষুধ বিক্রিতে অতিরিক্ত ছাড় দেওয়া হচ্ছে এবং যথাযথ নিয়ন্ত্রণের অভাবে বাজারে অনিয়ম বাড়ছে। পাশাপাশি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে ভুয়ো প্রেসক্রিপশনের মাধ্যমে নির্বিচারে অ্যান্টিবায়োটিক কেনাবেচা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তুলেছে তারা।
এর ফলে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (AMR)-এর ঝুঁকি বাড়ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।এই সব দাবি নিয়ে ইতিমধ্যেই জাতীয় ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে আলোচনা করেছে AIOCD। সূত্রের খবর, সরকারের পক্ষ থেকে সংগঠনকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে তাদের দাবিগুলি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় রেগুলেটরি কাঠামো নিয়ে কাজ চলছে।
তবে ধর্মঘটের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে। প্রতিদিন জীবনদায়ী ওষুধের উপর নির্ভরশীল বহু রোগী এবং বয়স্ক মানুষ সমস্যায় পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সেই কারণেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তের একাধিক খুচরো ওষুধ বিক্রেতা সংগঠন ধর্মঘট থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর, ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সংগঠন ইতিমধ্যেই ধর্মঘটে অংশ না নেওয়ার কথা জানিয়েছে। সেই তালিকায় রয়েছে পশ্চিমবঙ্গও।ফলে ধর্মঘটের দিন সম্পূর্ণ পরিষেবা বন্ধ না হয়ে সাধারণ মানুষের জন্য জরুরি ওষুধের জোগান অনেকটাই স্বাভাবিক থাকবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

Recent Comments