অশোক সেনগুপ্ত
দুর্গাপুজোর মতই পশ্চিমবঙ্গের ভোটে আনন্দের পরিবেশ তৈরি করতে চান নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকরা। তাঁদের আবেদন, আসুন আমরা নির্ভয়ে, অবাধ ভোটদানের একটা আদর্শ পরিবেশ তৈরি করি। যাতে এ রাজ্যের মুখ উজ্জ্বল হয়।
শুক্রবার প্রশাসনের আধিকারিকরা এরকমই একটা অঙ্গীকার করলেন। এসপ্লানেডের ট্রাম ডিপোয় মঞ্চে সংক্ষিপ্ত ভাষণের পর ছোটা ভিম আর ছুটকি-র সাথে হাসিমুখে গোষ্ঠীছবি তোলার পর দুই ম্যাসকটের সঙ্গে করমর্দন করে তাঁরা ‘রিবন কাটিং সেরিমনি’ সারেন বিশেষভাবে সাজানো শীততাপ-নিয়ন্ত্রিত ট্রামের। সেটি চড়ে যান শ্যামবাজারে।
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী অফিসার মনোজ আগরওয়াল তাঁর ভাষণে বলেন, “ভোটদানের সচেতনতার এই উদ্যোগ যথাসম্ভব সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে চাই। যেন প্রকৃতই ভোটের আবহ হয়ে ওঠে দুর্গাপুজোর মতই আনন্দদায়ক।”
উত্তর কলকাতায় ভোটদানের হার ভীষন কম কম— ৫৫-৬০ শতাংশের মতো। এই মন্তব্য করে মনোজবাবু বলেন, “সমাজের প্রতি, সরকার গঠনের জন্য সবার একটা দায়বদ্ধতা আছে। আসুন এই ব্যাপারে সবাই মিলে সচেতনতা বৃদ্ধির আন্দোলনে নামি। অসুস্থ, বয়স্ক বা শারীরিক সীমাবদ্ধতা আছে, এমন আগ্রহীদের যাতে বাড়ি থেকে নিয়ে ভোট দেওার ব্যবস্থা করা যায়, তার জন্য আমরা ওলা-উবেরের সঙ্গে কথা বলছি।”
বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত বলেন, কলকাতাকে এর প্রায় প্রথম যে দুটি প্রতীকের জন্য গোটা বিশ্ব চেনে, তার একটি হল দুর্গাপুজো। অপরটি ট্রাম। ট্রামের কৌলিন্য কয়েক বছর ধরে নানা কারণে কমে গিয়েছে। কীভাবে তা পুনরুদ্ধার করা যায়, সরকার নিশ্চয়ই ভেবে দেখবে। পশ্চিমবঙ্গে ভোটদানের মত ভালো হার দেশের কম রাজ্যেই হয়। কিন্তু কলকাতা ও সংলগ্ন বেশ কিছু অঞ্চলে এই হার বেশ কম। ভোটের সচেতনতাবৃদ্ধির চেষ্টায় আমরা ট্রামকে জুড়তে পেরে আনন্দিত। ভোটের সময় ছুটির আবহে ক্রিকেট-পিকনিক চলুক! সেই সঙ্গে ভোটের হারবৃদ্ধির চেষ্টাও করতে হবে। ভোটের সময় অশান্তির জেরে এ রাজ্যে আহত/নিহত হচ্ছে। এতে রাজ্যের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। হিংসা নয়, এই ভাবমূর্তি ভালো করতে সবাইকে উদ্যোগী হতে হবে।
সুব্রতবাবুর আরজিকে সমর্থন করে ইসি-র ডিজি (মিডিয়া) আশিস গোয়েল বলেন, এসভিইইপি (Systematic Voters’ Education and Electoral Participation) -র মাধ্যমে বেশ কয়েক মাস
ধরে মানুষকে ভোটদানে আরও উদ্বুদ্ধ করার এবং সমগ্র প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বাড়ানোর চেষ্টা করছি।
কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ বলেন, “কলকাতার অতীতের সঙ্গে ট্রামের একটা বিশেষ সখ্যতা আছে। বাইরের অনেকে কলকাতায় আসেন ট্রামে চড়তে। এই ট্রামকে ভোটের প্রচারপর্বে ব্যবহারের উদ্যোগটি শুভ। এই উদ্যোগের জন্য উত্তর কলকাতা নির্বাচনী জেলাকে ধন্যবাদ জানাই”।
কলকাতা পুরসভার কমিশনার তথা উত্তর কলকাতা (নির্বাচনী) জেলার ডিইও স্মিতা পাণ্ডে বলেন, “ভোটের সচেতনতাবৃদ্ধির প্রক্রিয়ায় গত বছর থেকে আমরা ট্রামকে যুক্ত করেছি”। মঞ্চে ছিলেন ইসি-র উপ অধিকর্তা (মিডিয়া) অপূর্ব কুমার সিং, রাজ্যের অতিরিক্ত মুখ্য নির্বাচনী অফিসার অরিন্দম নিয়োগী, উপ মুখ্য নির্বাচনী অফিসার সুব্রত পাল, কলকাতা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার রূপেশ কুমার প্রমুখ।


Recent Comments