খড়গপুরের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (আইআইটি)–র কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক প্রফেসর সপ্তর্ষি ঘোষ আন্তর্জাতিক গবেষণা পরিসরে এক গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি অর্জন করেছেন। তাঁকে স্প্রিংগার প্রকাশিত মর্যাদাপূর্ণ জার্নাল “Artificial Intelligence and Law”-এর প্রধান সম্পাদক (Editor-in-Chief) হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। এই নিয়োগ একাধিক দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বাইরে থেকে তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি এই জার্নালের শীর্ষ সম্পাদকীয় দায়িত্বে এলেন।
আন্তর্জাতিক এআই–ল গবেষণা ক্ষেত্রে এই জার্নালটি দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করে আসছে। বিশেষত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, আইন ও নীতিশাস্ত্রের সংযোগস্থলে যে গবেষণা ও নীতিগত আলোচনা চলছে, সেখানে এই জার্নাল একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে বিবেচিত। এশিয়া থেকে সম্পাদকীয় পর্যায়ে প্রতিনিধিত্ব অত্যন্ত সীমিত থাকার প্রেক্ষাপটে প্রফেসর ঘোষের নিয়োগ বিশ্ব গবেষণা সমাজে ভৌগোলিক বৈচিত্র্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নেতৃত্বের গুরুত্বকে নতুন করে তুলে ধরেছে।
প্রফেসর ঘোষের গবেষণা মূলত এআই–চালিত আইনি যুক্তি, ব্যাখ্যাযোগ্য ও দায়বদ্ধ এআই ব্যবস্থা এবং প্রযুক্তি–সচেতন নীতিনির্ধারণ কাঠামোর উপর কেন্দ্রীভূত। এই ক্ষেত্রগুলিতে তাঁর কাজ আন্তর্জাতিক স্তরে প্রশংসিত হয়েছে এবং প্রযুক্তি ও আইনের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নিয়ে চলমান আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে।
নতুন সম্পাদকীয় ভূমিকায় তিনি গবেষণার মানোন্নয়ন, আন্তঃবিষয়ক সংলাপ এবং সামাজিকভাবে দায়ী এআই গবেষণাকে আরও উৎসাহিত করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।একই সঙ্গে তিনি দ্য ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স (ইন্ডিয়া) এবং পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি একাডেমির অংশ। গবেষণা, একাডেমিক নেতৃত্ব ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে তাঁর ধারাবাহিক অবদান আইআইটি খড়গপুরের বৈশ্বিক একাডেমিক অবস্থানকে আরও দৃঢ় করেছে বলে মনে করছেন সহকর্মীরা।
আইআইটি খড়গপুর কর্তৃপক্ষ এই সাফল্যকে প্রতিষ্ঠানের জন্য গর্বের মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছে।এই নিয়োগ কেবল একজন শিক্ষকের ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং আন্তঃবিষয়ক ও সামাজিকভাবে দায়বদ্ধ এআই গবেষণায় আইআইটি খড়গপুরের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার স্বীকৃতি। ভবিষ্যতে বৈশ্বিক পরিসরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আইনের ক্ষেত্রের দিকনির্দেশনা নির্ধারণে প্রফেসর ঘোষের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বলেই প্রত্যাশা।

