back to top
Sunday, April 12, 2026
Leaderboard Ad Space (728x90) - Responsive
Homeকলকাতাগবেষণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সীমা নির্ধারণে নতুন পথে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়

গবেষণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সীমা নির্ধারণে নতুন পথে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়

স্মার্টফোন খুললেই এখন এক ক্লিকের দূরত্বে উত্তর। পড়াশোনা হোক বা গবেষণা—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ধীরে ধীরে ঢুকে পড়েছে শিক্ষাজীবনের প্রতিটি স্তরে। এক সময় যেখানে স্কুলের প্রজেক্ট বা হোমওয়ার্কে এআই ব্যবহারের কথা শোনা যেত, এখন সেই প্রবণতা পৌঁছে গিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগার পর্যন্ত। পিএইচডি স্তরের গবেষণাতেও বাড়ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উপর নির্ভরতা। এই বদলে যাওয়া বাস্তবতার মধ্যেই এ বার স্পষ্ট নিয়ম টানতে চলেছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পিএইচডি গবেষণাপত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার সীমিত করার জন্য একটি নতুন বিধি আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আসন্ন সিন্ডিকেট বৈঠকে প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে তা প্রকাশ্যে আনা হবে। প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, কোনও গবেষণাপত্রে ১০ শতাংশের বেশি এআই-এর ব্যবহার গ্রহণযোগ্য হবে না। নির্ধারিত সীমা ছাড়িয়ে গেলে সেই গবেষণাপত্র বাতিল হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও থাকছে।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিমধ্যেই গবেষণার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্লেগিয়ারিজ়ম শনাক্তকরণে ইউজিসি অনুমোদিত সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়। অর্থাৎ অন্যের লেখা বা বই থেকে হুবহু নকল করা হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত যাচাইয়ের আওতায় থাকে। এ বার সেই নজরদারির পরিধি আরও বাড়তে চলেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কতটা মাত্রায় ব্যবহৃত হচ্ছে, তা চিহ্নিত করার জন্য বিশেষ সফটওয়্যার ব্যবহারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। যদি কোনও গবেষণাপত্রে ১০ শতাংশের বেশি এআই-এর ছাপ ধরা পড়ে, তা হলে সেই থিসিস বাতিল বলে গণ্য করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দেবাশিস দাস জানিয়েছেন, গবেষণাপত্র যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনা আগে থেকেই রয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আরোপের লক্ষ্যে সফটওয়্যার ব্যবস্থার আরও উন্নতি করা হচ্ছে। এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সিন্ডিকেট।

রাজ্যের মধ্যে এই ধরনের পদক্ষেপে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ই প্রথম উদ্যোগী হচ্ছে। যদিও দেশের একাধিক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইতিমধ্যেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন শর্ত আরোপ করা হয়েছে। কোথাও প্রযুক্তিগত বা কোডিং সংক্রান্ত কাজে এআই ব্যবহারের অনুমতি রয়েছে, তবে সেখানে গবেষকদের ব্যাখ্যা দিতে হয় কেন এবং কী উদ্দেশ্যে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। কোথাও আবার ছবি তৈরিতে এআই ব্যবহারের ঘটনাকে বৈজ্ঞানিক অপব্যবহার হিসেবে দেখা হয়। আবার কিছু প্রতিষ্ঠানে বিশেষ সফটওয়্যারের মাধ্যমে এআই-নির্ভর লেখা শনাক্ত করা হয় এবং নির্দিষ্ট সীমা ছাড়ালে গবেষণাপত্র বাতিল হয়ে যায়। এমনকি কিছু গবেষণাগারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার একেবারেই নিষিদ্ধ।

এই প্রেক্ষাপটে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সনাতন চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর কথায়, ইন্টারনেট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহজলভ্যতার কারণে অনেক গবেষক নিজের গবেষণাপত্র তৈরিতে প্রযুক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করছেন। এর ফলে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার মৌলিক চরিত্র ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই প্রবণতাকে নিয়ন্ত্রণ না করলে ভবিষ্যতে গবেষণার মান নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠতে পারে বলেই মত তাঁর। তাই নকল বা এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি স্পষ্ট ঊর্ধ্বসীমা নির্ধারণ করা জরুরি বলে মনে করছেন তিনি।

ডিজিটাল যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যেমন গবেষণাকে দ্রুততর ও সহজতর করছে, তেমনই এর অপব্যবহার নতুন করে নৈতিক প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই উদ্যোগ সেই প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে গবেষণার বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষার একটি প্রয়াস হিসেবেই দেখছেন শিক্ষামহলের একাংশ।

আরো পড়ুন:  খাতায়-কলমে 'নিরাপদ', কিন্তু বাস্তবে? আনন্দপুরের আগুন আর পার্ক স্ট্রিটের ঘটনা কি অন্য ইঙ্গিত দিচ্ছে?

Author

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Demo Ad
Sponsored Links

Most Popular

Recent Comments