গণনার আগে রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে। বুথফেরত সমীক্ষাকে সম্পূর্ণভাবে খারিজ করে দিয়ে রাজ্যে ফের ২০০-র বেশি আসনে জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী তৃণমূল নেতৃত্ব। শনিবার দলের কাউন্টিং এজেন্ট ও প্রার্থীদের নিয়ে ভার্চুয়াল বৈঠকে সেই বার্তাই জোরালোভাবে তুলে ধরেন মমতা ব্যানার্জি এবং অভিষেক ব্যানার্জি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুথফেরত সমীক্ষাকে ‘শেয়ার বাজারের কারসাজি’র সঙ্গে তুলনা করে বলেন, এগুলি শুধুমাত্র জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করার কৌশল। তাঁর দাবি, ভোটের সময় কেন্দ্রীয় বাহিনীর চাপ ও ভয় দেখানোর চেষ্টা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষ তৃণমূলের পক্ষেই রায় দিয়েছেন। যারা এই পরিস্থিতির মধ্যেও দলের পাশে থেকেছেন, তাঁদের অবদান দল অবশ্যই মর্যাদা দেবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও একই সুরে বিজেপিকে আক্রমণ করে বলেন, তারাও জানে সরকার গঠন সম্ভব নয়। তাই ভুয়ো সমীক্ষার মাধ্যমে জনমত প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। তাঁর পূর্বাভাস, ২০২১ সালের থেকেও এ বার বেশি আসন পাবে তৃণমূল।
বৈঠকে গণনার দিনের জন্য বিস্তারিত রূপরেখা তৈরি করে দেওয়া হয়। এজেন্টদের খুব ভোরে গণনাকেন্দ্রে পৌঁছনোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং প্রতিটি আপডেট দলীয় দফতরে জানাতে বলা হয়েছে। কোথাও অল্প ব্যবধানে পিছিয়ে থাকলে সঙ্গে সঙ্গে পুনর্গণনার আবেদন জানানোর কথাও বলা হয়েছে। জয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে কেন্দ্র ছাড়তে নিষেধ করা হয়েছে।
এদিন কেন্দ্রীয় বাহিনী ও নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর অভিযোগ, ভোটের সময় সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে ভিনরাজ্যের পর্যবেক্ষকদেরও কড়া বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, দায়িত্বে গাফিলতি বা অসাংবিধানিক কাজ করলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অভিযোগ, প্রশাসন ও বাহিনীকে ব্যবহার করে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত মানুষের রায় তৃণমূলের পক্ষেই যাবে বলে তিনি আত্মবিশ্বাসী।
সব মিলিয়ে, গণনার আগে এই বৈঠক তৃণমূল কর্মীদের জন্য একপ্রকার ‘শেষ লড়াইয়ের ডাক’। বুথফেরত সমীক্ষাকে অগ্রাহ্য করে সংগঠনকে চাঙ্গা রেখে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার বার্তাই দিয়েছেন মমতা ও অভিষেক। এখন নজর গণনার দিনের দিকে—তাদের এই আত্মবিশ্বাস বাস্তবে কতটা প্রতিফলিত হয়, সেটাই দেখার।

Recent Comments