নিউজস্কোপ বাংলার (Newscope Bangla) তরফ থেকে আপনাদের জন্য রইল আজকের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক খবর। পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal) রাজনীতির ইতিহাসে সম্ভবত সবচেয়ে বড় চমকটি আজ ঘটে গেল। ২০২৬ সালের হাই-ভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনে (Assembly Election) খোদ মুখ্যমন্ত্রীর নিজের গড় বলে পরিচিত কেন্দ্রেই ঘটল এক অভাবনীয় রাজনৈতিক রদবদল।
ভবানীপুর (Bhabanipur) আসনের দিকে আজ সকাল থেকেই গোটা রাজ্যের নজর ছিল। কিন্তু বেলা গড়ানোর সাথে সাথে যে চিত্র স্পষ্ট হলো, তা তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress) শিবিরের জন্য এক বিরাট বিপর্যয়। এই কেন্দ্রে দীর্ঘদিনের অপ্রতিরোধ্য নেত্রী, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) পরাজিত হয়েছেন। তাঁকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বাজিমাত করেছেন ভারতীয় জনতা পার্টি (Bharatiya Janata Party) বা বিজেপি (BJP) -এর হেভিওয়েট নেতা এবং রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।
নির্বাচন কমিশন (Election Commission) সূত্রে প্রাপ্ত সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই মহারণে প্রায় ১৫,১১৪ এর ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন শুভেন্দু। একুশের নির্বাচনে নন্দীগ্রাম (Nandigram) আসনে ঠিক যেমন হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর পরাজয় বরণ করতে হয়েছিল তৃণমূল নেত্রীকে, ২০২৬ সালেও ঠিক সেই ইতিহাসেরই পুনরাবৃত্তি দেখা গেল। তবে এবারের ধাক্কাটা আরও বড়, কারণ কলকাতা (Kolkata) শহরের বুকে অবস্থিত এই কেন্দ্রটি গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে মুখ্যমন্ত্রীর ‘নিরাপদ দুর্গ’ হিসেবে পরিচিত ছিল।
ভোট গণনার শ্বাসরুদ্ধকর মুহূর্ত
আজ সকালে গণনা শুরু হওয়ার পর থেকেই উত্তেজনা ছিল চরমে।
প্রাথমিক পর্যায়: প্রথম দিকের কয়েকটি রাউন্ডে যখন পোস্টাল ব্যালট গোনা হচ্ছিল, তখন কিছুটা এগিয়ে ছিলেন রাজ্যের শাসক দলের নেত্রী। তৃণমূল সমর্থকদের মধ্যে তখন জয়ের ব্যাপারে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাস দেখা যাচ্ছিল।
খেলার মোড় পরিবর্তন: সপ্তম বা অষ্টম রাউন্ডের পর থেকেই চিত্রটা ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করে। বিরোধী দলনেতা ক্রমশ ব্যবধান কমাতে থাকেন এবং দশম রাউন্ডের পর তিনি লিড নিতে শুরু করেন।
চূড়ান্ত ফলাফল: এরপর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। প্রতিটি রাউন্ডের শেষে গেরুয়া শিবিরের প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান বেড়েই চলে। চূড়ান্ত রাউন্ডের গণনার শেষে বিরোধী প্রার্থী 15,114ভোটে নিজের জয় নিশ্চিত করেন।
ভবানীপুর: ‘মিনি ইন্ডিয়া’-র রায়
ভবানীপুরকে সাধারণত ‘মিনি ইন্ডিয়া’ (Mini India) বলা হয়ে থাকে, কারণ এখানে বিভিন্ন ভাষাভাষী এবং সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস। এই কেন্দ্র থেকেই ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর উপনির্বাচনে জিতে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তারপর থেকে এই আসনটিকে তিনি নিজের হাতের তালুর মতোই চিনতেন। কালীঘাট (Kalighat) অঞ্চলে তাঁর বাসভবন এই বিধানসভার অন্তর্গত, তাই আক্ষরিক অর্থেই এটি তাঁর ‘হোম টার্ফ’ (Home Turf)। নিজের পাড়ায় এমন হার, তাও আবার একসময়ের নিজেরই বিশ্বস্ত সেনাপতির কাছে, যা নিঃসন্দেহে শাসক দলের মনোবল ভেঙে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।
আজকের ভোট গণনাকেন্দ্রের বাইরে সকাল থেকেই ছিল কড়া নিরাপত্তা। কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে দিয়ে ইভিএম (EVM) গণনা শুরু হয়। দুপুরের পর থেকে যখন গেরুয়া শিবিরের প্রার্থী লিড নিতে শুরু করেন, তখন গণনাকেন্দ্রের বাইরে থাকা সবুজ শিবিরের সমর্থকদের মুখে হতাশার ছাপ স্পষ্ট হতে থাকে। বিকেলের দিকে যখন পরাজয় প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায়, তখন কালীঘাটের রাস্তায় নেমে আসে এক অদ্ভুত স্তব্ধতা। অন্যদিকে, গেরুয়া শিবিরের কর্মী-সমর্থকদের জয়ধ্বনি এবং উল্লাসে কেঁপে ওঠে শহরের বিভিন্ন প্রান্ত।


Recent Comments