নিজস্ব সংবাদদাতা: রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে নজিরবিহীন পরিস্থিতির সাক্ষী থাকল কলকাতা মিউনিসিপালিটি কর্পোরেশন। নির্ধারিত মাসিক অধিবেশনের দিন পুরসভার মূল অধিবেশন কক্ষ তালাবন্ধ থাকায় চরম অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অভিযোগ, বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও কক্ষের তালা খোলা হয়নি। ফলে বাধ্য হয়ে ক্লাব রুমেই বৈঠক করেন চেয়ারপার্সন মালা রয়, মেয়র ফিরহাদ হাকিম এবং তৃণমূল কাউন্সিলররা।
সম্প্রতি রাজ্য সরকারের একাধিক প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে কলকাতা পুরসভাকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছিল। মেয়র পারিষদের বৈঠক বাতিলের পর মাসিক অধিবেশন স্থগিতের নির্দেশ দেওয়া হয়। একইসঙ্গে পুরসভার সচিব পদেও রদবদল করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের সচিব স্বপনকুমার কুণ্ডুকে অন্যত্র দায়িত্ব দিয়ে তাঁর জায়গায় কিশোরকুমার বিশ্বাসকে আনা হয়েছে। এই প্রশাসনিক পরিবর্তনের মধ্যেই শুক্রবারের ঘটনাকে ঘিরে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত।
দুপুরে অধিবেশনে যোগ দিতে এসে কাউন্সিলররা দেখেন মূল সভাকক্ষের দরজায় তালা ঝুলছে। চেয়ারপার্সন মালা রায় একাধিকবার কক্ষ খুলে দেওয়ার অনুরোধ করলেও তা কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ। শেষ পর্যন্ত বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে কাউন্সিলরস ক্লাব রুমে বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সেখানে পর্যাপ্ত অবকাঠামো না থাকলেও কাউন্সিলররাই চেয়ার-টেবিল সরিয়ে সভার পরিবেশ তৈরি করেন। এমনকি প্রথমদিকে মাইকের ব্যবস্থাও ছিল না; পরে সীমিত পরিসরে তা জোগাড় করা হয়।
পুরসভায় তৃণমূলের মোট ১৩৭ জন কাউন্সিলরের মধ্যে প্রায় ৯০ জন ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মালা রায় বলেন, অধিবেশন কক্ষ খুলে দেওয়ার অনুরোধ জানানো হলেও তা মানা হয়নি, তাই ক্লাব রুমেই অধিবেশন করার সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। একইসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, কার নির্দেশে অধিবেশন কক্ষ বন্ধ রাখা হয়েছিল এবং কেন নির্বাচিত প্রতিনিধিদের স্বাভাবিক প্রশাসনিক কাজ করতে দেওয়া হল না।
মেয়র ফিরহাদ হাকিম ঘটনাটিকে পুরসভার ইতিহাসে ‘কালো দিন’ বলে উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য, নাগরিক পরিষেবা ও প্রশাসনিক কাজ ব্যাহত হলে তার প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের উপরই। তিনি সংঘাতের বদলে উন্নয়ন ও পরিষেবার স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। বর্ষার মুখে শহরের নিকাশি ব্যবস্থা, জলজমা রোধ এবং জরুরি নাগরিক পরিষেবা নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেন তিনি।
রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর বিভিন্ন পুরসভায় তৃণমূল কাউন্সিলরদের পদত্যাগের ঘটনা সামনে এসেছে। সেই প্রেক্ষাপটে কলকাতা পুরসভাতেও রাজনৈতিক সমীকরণ বদলাবে কি না, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। যদিও তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, কলকাতা পুরসভা এখনও বৈধ নির্বাচিত বোর্ডের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে এবং তার সাংবিধানিক অধিকার অক্ষুণ্ণ রয়েছে।
রাজনৈতিক সংঘাতের আবহে অধিবেশন কক্ষ তালাবদ্ধ থাকার এই ঘটনা শুধু প্রশাসনিক প্রশ্নই তুলছে না, বরং রাজ্য সরকার ও পুরসভার সম্পর্ক নিয়েও নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এখন নজর, এই অচলাবস্থার ব্যাখ্যায় প্রশাসন কী পদক্ষেপ করে এবং নাগরিক পরিষেবার স্বার্থে পরিস্থিতির সমাধান কীভাবে হয়।

Recent Comments