নিজস্ব সংবাদদাতা : পবিত্র ঈদ উল আযহা সামনে এলেই দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার কুশমন্ডি ব্লকের বোড়গছি হাটে সাধারণত গরু কেনাবেচার ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা যায়। জেলার অন্যতম বৃহৎ এই হাটে প্রতি রবিবার ও বুধবার দূরদূরান্ত থেকে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সমাগম ঘটে। তবে এবারের চিত্র অনেকটাই ভিন্ন। ঈদের মুখেও গরুর বাজারে সেই চেনা ভিড় নেই, বরং বাজারজুড়ে দেখা যাচ্ছে মন্দার প্রভাব।
হাটে আসা ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের দাবি, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার গরু বিক্রি এবং কেনাবেচা অনেকটাই কমে গিয়েছে। অন্যদিকে খাসি ও ছাগলের দোকানগুলিতে তুলনামূলকভাবে বেশি ভিড় দেখা যাচ্ছে। বহু ক্রেতার বক্তব্য, বর্তমান পরিস্থিতি ও বিভিন্ন আইনগত বিধিনিষেধের কারণে অনেকেই এবার কোরবানির জন্য গরুর বদলে খাসি বা ছাগল কেনার দিকেই ঝুঁকছেন।
শুধু পশুর বাজার নয়, ঈদকে ঘিরে অন্যান্য ব্যবসাতেও মন্দার ছাপ স্পষ্ট। বিশেষ করে মসলার দোকানগুলিতে আগের মতো ক্রেতাদের ভিড় নেই বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। প্রতি বছর ঈদের আগে রান্নার বিভিন্ন উপকরণ ও মসলা কিনতে মানুষের উপচে পড়া ভিড় থাকলেও এবারে সেই চেনা ব্যস্ততা অনেকটাই ফিকে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ জানিয়েছেন, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরেই ধর্মীয় রীতি মেনে কোরবানি করে আসছেন এবং এবারও সরকারের সমস্ত নিয়ম ও নির্দেশিকা মেনেই শান্তিপূর্ণভাবে উৎসব পালন করবেন। পাশাপাশি পশুসম্পদ ও গবাদি পশু সংক্রান্ত বিষয়ে জাতীয় স্তরে আরও স্পষ্ট নীতির প্রয়োজন রয়েছে বলেও মত প্রকাশ করেছেন অনেকেই।
হাট ব্যবসায়ীদের কথায়, মানুষের উপস্থিতি থাকলেও গরুর সারি আগের মতো আর চোখে পড়ছে না। তবে খাসি ও ছাগলের বাজারে চাহিদা বৃদ্ধির ফলে সেখানে কিছুটা হলেও ব্যবসার গতি বজায় রয়েছে।
সব মিলিয়ে, ঈদ উল আযহাকে কেন্দ্র করে কুশমন্ডির বোড়গছি হাটে এবছর এক ভিন্ন চিত্র ধরা পড়েছে। গরুর বাজারে মন্দার মাঝেও সাধারণ মানুষ সরকারের নিয়ম মেনে শান্তিপূর্ণভাবে ধর্মীয় উৎসব পালনের বার্তাই তুলে ধরছেন।

Recent Comments