নেটমাধ্যমে (Social Media) ব্যক্তিগত মুহূর্ত বা শখের ছবি পোস্ট করা বর্তমান যুগে একটি অত্যন্ত সাধারণ বিষয়। কিন্তু সেই ব্যক্তি যদি হন পুলিশ প্রশাসনের একজন গুরুত্বপূর্ণ আধিকারিক এবং ছবির বিষয়বস্তু যদি হয় কোনো অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র, তবে তা যে বিতর্কের জন্ম দেবে, সেটাই স্বাভাবিক। ঠিক এমনটাই ঘটেছে কলকাতা পুলিশের (Kolkata Police) অন্যতম হাই-প্রোফাইল এলাকা কালীঘাট (Kalighat) থানার ক্ষেত্রে।
হাতে একটি আধুনিক রাইফেল নিয়ে ছবি পোস্ট করে প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন ওই থানার অফিসার ইন-চার্জ বা ওসি (Officer In-Charge) গৌতম দাস (Goutam Das)। অবশেষে সেই বিতর্কের জেরে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করল প্রশাসন। রাজ্য সরকারের (State Government) তরফ থেকে এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তি জারি করে তাঁকে সরাসরি নবান্নে (Nabanna) বদলি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।সম্প্রতি ইন্টারনেটে একটি ছবি ভাইরাল হয়, যেখানে দেখা যায় গৌতমবাবু একটি বড় স্নাইপার জাতীয় রাইফেল হাতে নিয়ে রীতিমতো পোজ দিচ্ছেন।
এই ছবি প্রকাশ্যে আসতেই প্রশাসনিক থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহলে তুমুল শোরগোল পড়ে যায়। প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, একজন দায়িত্বশীল পুলিশ আধিকারিক কীভাবে এহেন আচরণ করতে পারেন? পুলিশের নিজস্ব নিয়মশৃঙ্খলা বা প্রোটোকল অনুযায়ী, ইউনিফর্মে বা সাধারণ পোশাকে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করে জনসমক্ষে বা নেটমাধ্যমে ছবি দেওয়া ঘোরতর নিয়মবহির্ভূত কাজ। বিশেষ করে তিনি এমন একটি থানার দায়িত্বে ছিলেন, যে এলাকাটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী-সহ বহু হেভিওয়েট ব্যক্তিত্বের বাসস্থানের কারণে অতিমাত্রায় সংবেদনশীল বা ভিভিআইপি (VVIP) জোন হিসেবে পরিচিত।
রাজ্য পুলিশের সদর দফতর ভবানী ভবন (Bhabani Bhawan) এবং লালবাজার (Lalbazar) সূত্রে খবর, এই ঘটনাটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আসার পরই চরম অসন্তোষ তৈরি হয়। বিষয়টি নিয়ে অভ্যন্তরীণ স্তরে খোঁজখবরও শুরু হয়েছিল। এর মাঝেই নবান্নের তরফ থেকে জারি করা হলো বদলির নির্দেশিকা। নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, গৌতম দাসকে আপাতত রাজ্য সচিবালয়ে ডেপুটেশনে (Deputation) রাখা হবে।
প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, এই পদক্ষেপটি আদতে এক প্রকার ‘শাস্তিমূলক’ বদলি। ফিল্ড পোস্টিং বা সরাসরি থানার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে তাঁকে অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ ডেস্কে বসানোর সিদ্ধান্তটি বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, পুলিশি শৃঙ্খলার প্রশ্নে প্রশাসন কোনোভাবেই আপস করতে রাজি নয়।পুলিশ বাহিনীর আধিকারিকদের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু নির্দেশিকা বা গাইডলাইন রয়েছে। বাহিনীর ভাবমূর্তি যাতে কোনোভাবেই ক্ষুণ্ণ না হয়, সেদিকে কড়া নজর রাখার নির্দেশ বারবার দেওয়া হয়েছে ওপরমহল থেকে। তা সত্ত্বেও একজন অভিজ্ঞ অফিসারের এমন ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ কাজে অনেকেই বিস্মিত হয়েছেন
। যদিও ওই অফিসারের ঘনিষ্ঠ মহলের একাংশের দাবি, ছবিটি সম্ভবত কোনো শুটিং রেঞ্জ বা শখের বশে তোলা হয়েছিল এবং এর পিছনে অন্য কোনো খারাপ উদ্দেশ্য ছিল না। কিন্তু তাতে বিতর্ক থামেনি। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে নেটিজেনরা পুলিশের ভূমিকা ও পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।


Recent Comments