রাজ্য রাজনীতিতে ফের একবার শোরগোল। শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress)-এর অন্দরে যেন ক্ষোভের আগুন কিছুতেই নিভতে চাইছে না। একের পর এক নেতার বেসুরো মন্তব্য এবং দলত্যাগের জল্পনার মাঝেই এবার প্রকাশ্যে এল আরও এক বিস্ফোরক দাবি। দলেরই এক বর্ষীয়ান ও প্রভাবশালী নেতা এবার সরাসরি দল ছাড়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিলেন।
শুধু তাই নয়, দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি এমন এক মন্তব্য করেছেন, যা ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal)-এর রাজনৈতিক মহলে রীতিমতো আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। চরম হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেছেন, “এভাবে চলতে থাকলে আগামী দিনে দলটা শুধুই একটা সাইনবোর্ড হয়ে যাবে।”
কলকাতা (Kolkata)-র রাজনৈতিক বৃত্তে কান পাতলেই এখন শাসক শিবিরের এই অস্বস্তির কথা শোনা যাচ্ছে। যদিও ওই নেতা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের পদত্যাগের কথা ঘোষণা করেননি, তবে তাঁর সাম্প্রতিক এই মন্তব্য এবং দলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে তাঁর ধারাবাহিক অনুপস্থিতি জল্পনার আগুনকে আরও উসকে দিচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই নেতার ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে খবর, দলের বর্তমান কাজের ধরন, নীতি নির্ধারণের প্রক্রিয়া এবং নিচুতলার কর্মীদের প্রতি শীর্ষ নেতৃত্বের অবহেলা নিয়েই তাঁর মূল অভিযোগ। তিনি মনে করেন, যে আদর্শ এবং মাটি কামড়ে পড়ে থাকার নীতি নিয়ে একসময় এই রাজনৈতিক দলটি তৈরি হয়েছিল, আজ তা অনেকটাই পথভ্রষ্ট।
দীর্ঘদিন ধরে দলের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত থাকা এই প্রবীণ নেতা তাঁর আক্ষেপ একেবারেই গোপন করেননি। ঘরোয়া আলোচনায় তিনি স্পষ্টই জানিয়েছেন যে, দলে এখন পুরনো, ত্যাগী এবং সৎ কর্মীদের আর কোনও সম্মান নেই। চারদিকে শুধুই সুবিধাভোগীদের ভিড় বাড়ছে। তাঁর মতে, এই পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন না হলে সাধারণ মানুষ দলের দিক থেকে পুরোপুরি মুখ ফিরিয়ে নেবে। আর তখনই দলের অস্তিত্ব চরম সংকটে পড়বে। তাঁর সেই চাঞ্চল্যকর “সাইনবোর্ড” মন্তব্যটি আসলে দলের এই আসন্ন বিপদের দিকেই ইঙ্গিত করছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এই ঘটনা স্বভাবতই বিরোধী শিবিরকে বাড়তি অক্সিজেন জুগিয়েছে। বিরোধী দলগুলি এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে শাসক দলের বিরুদ্ধে আক্রমণ আরও তীব্র করেছে। তাদের দাবি, শাসক দলের এই অন্তর্কলহ বারবার প্রমাণ করছে যে তাদের পায়ের তলার মাটি ক্রমশ সরে যাচ্ছে। ভারতবর্ষ (India)-এর অন্যতম প্রধান আঞ্চলিক দল হিসেবে সর্বভারতীয় স্তরে যে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চলছে, এই ধরনের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব সেই প্রক্রিয়াকে অনেকটাই দুর্বল করে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সাধারণ কর্মী-সমর্থকদের মধ্যেও এই ধরনের মন্তব্যের জেরে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।
অন্যদিকে, দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এই বিষয়ে এখনও প্রকাশ্যে কোনও কড়া প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে দলের অন্দরে যে তড়িঘড়ি ড্যামেজ কন্ট্রোলের চেষ্টা শুরু হয়েছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। শীর্ষ স্তরের নেতারা ওই ক্ষুব্ধ নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করে বরফ গলানোর চেষ্টা করছেন বলে দলীয় সূত্রে খবর। কিন্তু সেই চেষ্টা শেষ পর্যন্ত কতটা সফল হবে, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।


Recent Comments