দক্ষিণ কলকাতার গড়িয়ার পঞ্চসায়র এলাকায় একটি রাজনৈতিক দলীয় কার্যালয়ে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা ওই কার্যালয় খুলতেই ভিতর থেকে উদ্ধার হয়েছে হাসপাতালের সরঞ্জাম, সরকারি ত্রাণসামগ্রী, জমি-বাড়ি কেনাবেচার নথি থেকে শুরু করে আগ্নেয়াস্ত্র সংক্রান্ত কিছু কাগজপত্রও। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পঞ্চসায়র গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার ওই কার্যালয়টি সম্প্রতি রাজনৈতিক সংঘর্ষের আবহে অন্য দলের দখলে চলে যায় বলে অভিযোগ ওঠে। তারপর থেকেই সেটি কার্যত বন্ধ ছিল। শুক্রবার আচমকা অফিসটি খোলা হলে ভিতরের দৃশ্য দেখে হতবাক হয়ে যান স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ভিড় জমতে শুরু করে। বহু মানুষ মোবাইলে ছবি ও ভিডিও তুলতে থাকেন।
সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে উদ্ধার হওয়া হাসপাতালের সরঞ্জাম ঘিরে। স্থানীয়দের দাবি, কার্যালয়ের ভিতরে একাধিক অক্সিজেন সিলিন্ডার, রোগীর বেড এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু সামগ্রী মজুত ছিল। সাধারণ মানুষের চিকিৎসার কাজে ব্যবহৃত এই জিনিসগুলি কীভাবে একটি রাজনৈতিক অফিসে এল, তা নিয়েই শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক।
শুধু চিকিৎসা সরঞ্জামই নয়, উদ্ধার হয়েছে জমি ও বাড়ি কেনাবেচা সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথিও। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই ওই কার্যালয়কে কেন্দ্র করে “অন্য ধরনের কাজকর্ম” চলছিল। কিছু কাগজপত্রে আগ্নেয়াস্ত্র কেনাবেচা সংক্রান্ত তথ্যও মিলেছে বলে দাবি করা হয়েছে। যদিও এই নথিগুলির সত্যতা এখনও সরকারি ভাবে নিশ্চিত করেনি পুলিশ।
এছাড়াও সরকারি প্রকল্পের ত্রাণসামগ্রী মজুত থাকার অভিযোগ উঠেছে। সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দ সামগ্রী কেন রাজনৈতিক কার্যালয়ে রাখা হয়েছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা। তাঁদের কটাক্ষ, “এটা কি পার্টি অফিস, না গোপন গুদামঘর?”
ঘটনার পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা বাড়তে থাকে। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ওই কার্যালয়কে নানা বেআইনি কাজে ব্যবহার করা হচ্ছিল। এর পিছনে বড়সড় চক্র কাজ করতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তাঁরা।
যদিও অভিযুক্ত রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতৃত্ব এখনও প্রকাশ্যে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া দেয়নি। দলের একাংশের বক্তব্য, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো উচিত নয়। বিরোধীরা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিষয়টিকে অতিরঞ্জিত করছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, উদ্ধার হওয়া সমস্ত সামগ্রী ও নথিপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কীভাবে এই জিনিসগুলি সেখানে এল, কারা এর সঙ্গে যুক্ত এবং আদৌ কোনও বেআইনি কার্যকলাপ চলছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হবে। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদও করা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।


Recent Comments