অশোক সেনগুপ্ত
পশ্চিমবঙ্গের এক হ্যাম রেডিও অপারেটরের উদ্যোগে বাংলাদেশের ঢাকা থেকে এক রাজস্থানী ঘরে ফেরার মুখে। ১৬ বছর আগে নিখোঁজ হয়েছিলেন ওই রাজস্থানী। মঙ্গলবারও তিনি ঢাকায় আছেন। তাঁকে শীঘ্রই ফিরিয়ে আনা হবে।
যে উদ্যোগীর জন্য ওই রাজস্থানী ঘরে ফেরার মুখে, তাঁর নাম সৌরভ কুমার গোস্বামী, হ্যাম রেডিও কলসাইন ‘VU3JXF’। মঙ্গলবার সৌরভ এই প্রতিবেদককে জানান, “গত রাতে হোয়াটস্যাপ একটি বার্তা আসে ঢাকা থেকে। বার্তাটা ছিলো এক হ্যাম রেডিও-বন্ধু সামসুল হুদা মহাশয়ের। ওনার হ্যাম রেডিও ‘কল সাইন S21HD’। তিনি জানান, একজন মানসিক ভারসাম্যহীন ভারতীয় কোনও ভাবে ভারত বাংলাদেশ সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে চলে গিয়েছিলেন।
অবৈধ ভাবে ঢুকে পড়ার জন্য তিনি বাংলাদেশ সীমানা সুরক্ষা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হন। নির্দিষ্ট সময় জেলে আটক থাকার পর তাঁকে তাঁর বাড়ি ফেরত দেওয়ার সময় এক সমস্যা সৃষ্টি হয়। সমস্যা সমাধানের জন্য আমাকে অনুরোধ করা হয়। দায়িত্বটা হলো তাঁর বাড়ি ও তাঁর আত্মীয়দের খুঁজে বার করা।
একটা আশার আলোর উৎস পাওয়া গেল যে তাঁর নাম ছোটুরাম শর্মা, বাড়ি রাজস্থানে। শুরু হয় খোঁজা। যেহেতু আমি ২০ মিটার ব্যান্ডে একটি হ্যাম রেডিও (হাই ফ্রিকোয়েন্সি) নেট চালাই (ভারতে একমাত্র)। ভারতের হাই ফ্রিকোয়েন্সির সক্রিয় হ্যাম রেডিও অপারেটর মধ্যে মোটামুটি একটা পরিচিতি আছে আছে।
সেই মোতাবেক হাই ফ্রিকোয়েন্সি রেডিওর মাধ্যমে আমি আমার আর এক হ্যাম রেডিওর বন্ধুকে বেতার মারফত খবরটা পাঠাই। তিনি রাজস্থানের কোটায় থাকেন। নাম রবীন্দর সিং টোমার, হ্যাম রেডিও ‘কল সাইন VU2TIH’।
প্রায় সঙ্গে সঙ্গে উনি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। শুরু করেন খোঁজ। জানা যায় জয়পুরের নায়লা নামে ছোটুরামের সাকিন। তার সঙ্গে তাঁর বাবার নামও জানা যায় জগদীশ শর্মা।
এর নেপথ্যে আর এক জনের অবদান না বললে অন্যায় হবে। তিনি হলেন ওই নায়লা গ্রামের মুখিয়া প্রল্লাদ মালি মহাশয়।
বর্তমানে দুই দেশের পররাষ্ট্র নিয়ম নীতি মেনে ছোটুরামকে তাঁর পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেবার প্রক্রিয়া চলছে।


Recent Comments