বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে আগামী দু’দিন দক্ষিণবঙ্গজুড়ে ঝড়-বৃষ্টির দাপট চলতে পারে। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দফতর। বৃষ্টির সঙ্গে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলায় অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় ৭০ থেকে ১১০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে। তবে পশ্চিম মেদিনীপুর ও বাঁকুড়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই দুই জেলায় ২০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় জারি করা হয়েছে লাল সতর্কতা।
অন্য দিকে, পূর্ব মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া এবং পশ্চিম বর্ধমানে ভারী বৃষ্টির জন্য কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। শুক্রবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। ফলে বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন এলাকায় জল জমা এবং স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকছে।
নিম্নচাপের প্রভাব পড়বে উপকূলবর্তী এলাকাতেও। সমুদ্রপৃষ্ঠে ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৭০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। সেই সঙ্গে সমুদ্রে জলোচ্ছ্বাসের সম্ভাবনাও রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে উপকূলবর্তী জেলার মৎস্যজীবীদের আগামী ১৫ অগস্ট পর্যন্ত সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।
কলকাতাতেও দিনভর মেঘলা আকাশ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। সময় বিশেষে দু’-এক পশলা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৭.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩২ ডিগ্রির আশপাশে থাকতে পারে। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার সর্বোচ্চ পরিমাণ থাকতে পারে ৯৮ শতাংশ। ইতিমধ্যেই শহরে বৃষ্টির পরিমাণও যথেষ্ট হয়েছে। বুধবার সকাল সাড়ে ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬টা পর্যন্ত কলকাতায় ২৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে।
শুধু দক্ষিণবঙ্গ নয়, উত্তরবঙ্গেও দুর্যোগের পরিস্থিতি বজায় থাকবে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী সাত দিন পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের বেশির ভাগ জেলায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। ফলে বঙ্গোপসাগরের গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে আপাতত গোটা রাজ্যেই বর্ষার দাপট বজায় থাকার সম্ভাবনা।


Recent Comments