১৯৩৪ সালে স্বদেশী আন্দোলনের সময় বাংলার দুই ভাই মহাত্মা গান্ধীর অনুপ্রেরণায় এবং সতীশচন্দ্র দাশগুপ্তের সূত্র অনুযায়ী বিখ্যাত সুলেখা কালি প্রস্তুত করেন। সেই মৈত্র পরিবারের বর্তমান শরিক, সুলেখা ওয়ার্কস লিঃ-এর এম ডি কৌশিক মৈত্র শুক্রবার সন্ধ্যায় কলকাতায় ইন্ডিয়ান সায়েন্স নিউজ অ্যাসোসিয়েশন (‘ইসনা’) আয়োজিত ষষ্ঠ বিশ্বপতি মুখার্জি স্মারক বক্তৃতায় এক আলোচনাসভার প্রাক্কালে জানালেন ভাঙাগড়ার এই প্রক্রিয়ার মধ্যেই বাঙালি আশার আলো দেখতে পারে।
সুলেখা এবং ‘ইসনা’-র জন্ম যথাক্রমে ১৯৩৪ ও ১৯৩৫-এ। প্রথমটি রাজশাহীর ননিগোপাল মৈত্র ও শঙ্করাচার্য মৈত্রর হাত ধরে। দ্বিতীয়টির যাত্রা শুরু আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়, অধ্যাপক মেঘনাদ সাহার মতো কিছু অবিস্মরণীয় বিজ্ঞানীর সক্রিয়তায়। দুটি সংস্থাই প্রায় চোখের আড়ালে এগিয়ে চলেছে শতবর্ষের দিকে।
অম্বিকাচরণ মৈত্র ও মা সত্যবতী দেবীর অবদান এবং ত্যাগের মাধ্যমেই ঐতিহাসিক স্বদেশী ব্র্র্যান্ড ‘সুলেখা’ গড়ে উঠেছিল। বাড়ির সবাই মিলে প্রথম কালির ব্যাচ তৈরি শুরু করেন। মহাত্মা গান্ধী এই কালির নাম দিয়েছিলেন ‘সুলেখা’ (যার অর্থ সুন্দর লেখা যায় যা দিয়ে)।ব্রিটিশ পণ্য বয়কটের ডাকের সময় দেশের নেতাদের লেখার কাজের জন্য এই স্বদেশী কালি বড় ভূমিকা রেখেছিল। মৈত্র পরিবারের উত্তরসূরি কৌশিকবাবু ঐতিহ্যবাহী ব্র্যান্ডটিকে টিঁকিয়ে রেখেছেন, নতুন পণ্যের পাশাপাশি প্রিন্টার কালি ও সৌর শক্তির কাজ করছেন।
শুক্রবার তিনি বাংলার বিজ্ঞানচর্চার ইতিহাসে ‘ইসনা’-র দীর্ঘ সক্রিয়তা ও নিষ্ঠার কথা জেনে সন্তোষ প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে তাঁর ভাষণে বলেন, এককভাবে নয়, সমমনস্ক বাঙালি উদ্যোগ প্রিয়া একত্রিত হয়ে বিজ্ঞানচর্চার কাজে সহায়ক হতে পারে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে জনমুখী একটি প্রকল্পের সঙ্গে আছি। অনেকে নানা প্রকল্পে যথাসম্ভব সহায়তা করছে। কিন্তু এক ছাতার তলায় পরিকল্পিতভাবে করতে পারলে সামগ্রিক সুফল মিলবে।
কৌশিক মৈত্র বলেন, প্রয়োজনে শিক্ষক, প্রধান শিক্ষক সংগঠন এবং সময় বিশেষে পড়ুয়াদের এইসব গঠনমূলক কাজে সামিল করতে হবে। আমরা যতই বিদেশ দেখি, উন্নতি করতে হবে দেশেরই। কলকাতায় গুরুত্ব কতটা, তার ভুললে চলবে না। আজ আমরা কেন, কতটা পিছিয়ে গিয়েছি, সেই বিশ্লেষনে না গিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সঠিক পথ ধরতে হবে। যা করতে হবে, তাড়াতাড়ি করতে হবে।
অনুষ্ঠানে ইন্ডিয়ান সায়েন্স নিউজ অ্যাসোসিয়েশনের (‘ইসনা’) অবৈতনিক সম্পাদক অধ্যাপক অমিতকৃষ্ণ দে সংগঠনের কার্যাবলী এবং এর সঙ্গে যুক্ত বিশিষ্টজনের অবদান, বাংলা ও ইংরেজিতে দুটি বিজ্ঞান সাময়িকীর বিকাশের এবং আগামীতে আবার বক্তৃতামালা শুরুর কথা জানান।
এ ছাড়াও এদিনের অনুষ্ঠানে বলেন ষষ্ঠ বিশ্বপতি মুখার্জি স্মারক বক্তৃতায় আলোচনাসভার
মূল আলোচক তথা বিদ্যাসাগর কলেজের অধ্যাপক অরুনাভ মিশ্র, ‘ইসনা’-র সভাপতি, তথা ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিসটিক্যাল ইন্সটিট্যুটের অর্থনীতি বিভাগের অতিথি অধ্যাপক, অক্সফোর্ডের প্রাক্তনী ও সাহা ইন্সটিট্যুট অফ নিউক্লিয়ার ফিজিক্সের প্রাক্তন অধিকর্তা অধ্যাপক বিকাশ চক্রবর্তী, ‘ইসনা’-র সহ-সভাপতি প্রশান্ত বসু, ‘ইসনা’-র পরিচালনমন্ডলির সদস্য অধ্যাপক ডঃ অর্ণব কুমার ব্যানার্জি প্রমুখ।


Recent Comments