টানা বৃষ্টির জেরে গঙ্গার জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় মালদহের বিভিন্ন এলাকায় তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। নদীগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে বসতবাড়ি ও জমিজমি। এবার সেই ভাঙনের কবলে পড়ে শনিবার গভীর রাতে গঙ্গার গর্ভে তলিয়ে গেল পশ্চিম রতনপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি বড় অংশ।
ভূতনি ও রতুয়া সংলগ্ন এলাকার এই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৩২০ জন পড়ুয়া পড়াশোনা করে। স্কুল ভবনের একাংশ নদীতে তলিয়ে যাওয়ায় বর্তমানে সেখানে পঠনপাঠন চালিয়ে যাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতির জেরে আপাতত স্কুলের পড়াশোনা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই স্কুল ভবনটি নদীভাঙনের মুখে ছিল। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার প্রশাসনকে জানানো হলেও স্কুল রক্ষায় কার্যকর কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। অভিযোগের আঙুল উঠেছে প্রশাসন ও সেচ দফতরের দিকেও।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক বাপি সরকার জানান, গত বছরও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। সে সময় প্রশাসনের কাছে স্কুল ভবন রক্ষার আবেদন জানানো হলেও কোনও স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাঁর অভিযোগ, প্রশাসনের উদাসীনতার কারণেই শেষ পর্যন্ত স্কুলের একাংশ গঙ্গার গর্ভে চলে গেল।
তিনি আরও জানান, আপাতত স্কুলের প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ও অন্যান্য সামগ্রী নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেগুলি খাসমহল জুনিয়র উচ্চ বিদ্যালয়ে রাখা হয়েছে।
এদিকে, স্কুল ভবনের একাংশ তলিয়ে যাওয়ায় উদ্বেগে পড়েছেন পড়ুয়া ও অভিভাবকেরা। প্রায় ৩২০ জন ছাত্রছাত্রীর পড়াশোনা কীভাবে এবং কোথায় চালানো হবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা এবং অভিভাবকেরা।
গত কয়েক দিনের প্রবল বৃষ্টিতে গঙ্গা ফুলেফেঁপে ওঠায় ভূতনি ও রতুয়ার বিস্তীর্ণ এলাকায় নদীভাঙন আরও ভয়াবহ আকার নিয়েছে। বহু পরিবার ইতিমধ্যেই ঘরবাড়ি ও জমিজমি হারিয়ে চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে। এবার নদীভাঙনের সেই ভয়াবহতার শিকার হল একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও।


Recent Comments