একই দিনে মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১০ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় এবার নড়েচড়ে বসল রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। অগস্ট মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকরা মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছেন বলে জানা গিয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে খবর, মৃত ১০ শিশুর মধ্যে আটজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বাইরের বিভিন্ন নার্সিংহোম থেকে মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসা হয়েছিল। বাকি দুই নবজাতকের জন্ম হয়েছিল মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেই।
জানা গিয়েছে, জন্মের পর চার শিশুর হৃদযন্ত্র সংক্রান্ত জটিল সমস্যা ধরা পড়ে। দু’জন শ্বাসকষ্টে ভুগছিল। অন্য শিশুদেরও জন্ডিস-সহ একাধিক শারীরিক জটিলতা ছিল। চিকিৎসকরা শিশুদের বাঁচানোর জন্য চেষ্টা চালালেও শেষ পর্যন্ত তাঁদের প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
একই দিনে এত সংখ্যক শিশুর মৃত্যুর খবর সামনে আসতেই শুরু হয় চাঞ্চল্য। অভিযোগ ওঠে, প্রথম দিকে এই মৃত্যুর তথ্য প্রকাশ্যে আনতে আগ্রহী ছিল না মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ। পরে স্বাস্থ্য দফতরের ওয়েবসাইটে সংক্রান্ত তথ্য আপলোড হওয়ার পর বিষয়টি নজরে আসে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের। এরপরই ঘটনার কারণ জানতে বিস্তারিত রিপোর্ট চাওয়া হয়।
মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সুপার প্রসেনজিৎ বর জানিয়েছেন, একই দিনে ১০ শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে এবং এ বিষয়ে স্বাস্থ্য দফতর রিপোর্ট চেয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সমস্ত তথ্য ও প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
তবে মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যায় পুরোপুরি সন্তুষ্ট হয়নি স্বাস্থ্য দফতর। ফলে কী পরিস্থিতিতে একই দিনে ১০ শিশুর মৃত্যু হল, চিকিৎসায় কোনও গাফিলতি ছিল কি না এবং শিশুদের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সময় তাঁদের শারীরিক অবস্থা কতটা সংকটজনক ছিল—সব বিষয় খতিয়ে দেখতেই বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ ছড়িয়েছে মালদহ জেলায়। এখন স্বাস্থ্য দফতরের তদন্ত ও রিপোর্টের পরই এই ঘটনায় পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সেদিকেই নজর সকলের।


Recent Comments