back to top
Monday, August 24, 2026
Leaderboard Ad Space (728x90) - Responsive
Homeজেলার খবরবাঁশের সেতু পার হলেই ৫ থেকে ২০ টাকা! মানিকচকে ‘পারাপার ফি’ ঘিরে...

বাঁশের সেতু পার হলেই ৫ থেকে ২০ টাকা! মানিকচকে ‘পারাপার ফি’ ঘিরে বিতর্ক

বর্ষার সময় নদী পারাপারের একমাত্র ভরসা বাঁশের সেতু। কিন্তু সেই সেতু পার হতে গেলেই দিতে হচ্ছে টাকা—এমন অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে মালদহের মানিকচকের নাজিরপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। হাহাজান ঘাটে কালিন্দী নদীর উপর তৈরি বাঁশের সেতু দিয়ে যাতায়াতের সময় সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ৫ টাকা থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পায়ে হেঁটে সেতু পার হলে ৫ টাকা, সাইকেল বা অন্যান্য যানবাহনের জন্য ১০ টাকা এবং মোটরবাইকে পারাপারের ক্ষেত্রে ২০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। টাকা না দিলে সেতু পার হতে দেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ উঠেছে। ফলে নদীর ওপারে বসবাসকারী ছয়টি গ্রামের মানুষ যাতায়াতের একমাত্র পথ হওয়ায় বাধ্য হয়ে টাকা দিচ্ছেন।

হাহাজান ঘাটের উপর দিয়ে বয়ে গিয়েছে কালিন্দী নদী। নদীর অপর পারে রয়েছে নাজিরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত ছয়টি গ্রাম। শুষ্ক মরশুমে নদীর জল কম থাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা নদীর বুক দিয়েই কোনওরকমে যাতায়াত করেন। কিন্তু বর্ষা এলেই জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় সেই পথ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। তখন বাঁশের সেতুই হয়ে ওঠে তাঁদের একমাত্র ভরসা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই সেতুটির অবস্থা অত্যন্ত জরাজীর্ণ। একাধিক জায়গায় বাঁশ ভেঙে যাওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। মাঝেমধ্যেই দুর্ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ। সেতুটি সংস্কারের জন্য পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার আবেদন জানানো হলেও স্থায়ীভাবে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় বাসিন্দা সুদয় মাহালদার নিজের উদ্যোগে শ্রমিক লাগিয়ে বাঁশের সেতুটি সংস্কারের কাজ শুরু করেন বলে জানা গিয়েছে। এরপর থেকেই সেতু পারাপারের সময় টাকা নেওয়ার অভিযোগ সামনে আসে। স্থানীয়দের দাবি, সুদয় মাহালদারের লোকজন সেতুর কাছে দাঁড়িয়ে পারাপারকারীদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করছেন।

যদিও টাকা আদায়কারীদের বক্তব্য, এটি কোনও তোলাবাজি নয়। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ হয়ে থাকা বাঁশের সেতুটি সংস্কারের জন্য অর্থের প্রয়োজন। সেই সংস্কারের খরচ জোগাড় করতেই পারাপারকারীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হচ্ছে। তাঁদের আরও দাবি, পঞ্চায়েতের এক আধিকারিকের মৌখিক নির্দেশের ভিত্তিতেই এই টাকা সংগ্রহ করা হচ্ছে।

আরো পড়ুন:  Mysterious child death মালদায় সাত বছরের শিশুর রহস্যমৃত্যু, সৎ মায়ের বিরুদ্ধে শ্বাসরোধের অভিযোগ

তবে এই দাবি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন নাজিরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান। তাঁর বক্তব্য, সাধারণ মানুষের কাছ থেকে সেতু পারাপারের জন্য টাকা নেওয়ার কোনও নির্দেশ পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়নি।

ফলে স্বাভাবিকভাবেই উঠছে একাধিক প্রশ্ন। যদি সেতু সংস্কারের জন্যই টাকা নেওয়া হয়, তাহলে কার নির্দেশে সেই অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে? এই টাকা কোথায় জমা হচ্ছে এবং সংস্কারের কাজে কীভাবে তা ব্যবহার করা হবে—তা নিয়েও তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।

অন্যদিকে, স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি দ্রুত খতিয়ে দেখা হোক। একইসঙ্গে জরাজীর্ণ বাঁশের সেতুটির স্থায়ী সংস্কার করে নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা করা হোক। নদী পারাপারের একমাত্র পথকে কেন্দ্র করে টাকা আদায়ের এই অভিযোগে এখন স্থানীয়দের মধ্যে তৈরি হয়েছে ক্ষোভ ও উদ্বেগ।

Author

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Demo Ad
Sponsored Links

Most Popular

Recent Comments