back to top
Monday, September 14, 2026
Leaderboard Ad Space (728x90) - Responsive
Homeবিশ্বনেপালে ভয়াবহ হড়পা বান, মৃত অন্তত ৮; নিখোঁজ বহু মানুষ

নেপালে ভয়াবহ হড়পা বান, মৃত অন্তত ৮; নিখোঁজ বহু মানুষ

ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বিপর্যস্ত উত্তর নেপাল। পাহাড়ি এলাকায় আচমকা নেমে আসা হড়পা বানের জেরে ভেসে গিয়েছে একাধিক গ্রাম, রাস্তা, সেতু ও বাজার এলাকা। এখনও পর্যন্ত অন্তত ৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, বিপুল সংখ্যক মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। তবে দুর্গম এলাকায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা এখনও স্পষ্ট নয়।

বুধবার সকালে তিব্বতের দিক থেকে আচমকা বিপুল জলস্রোত নেমে আসে নেপালের ভোতেকোশি নদীতে। মুহূর্তের মধ্যে নদীর জল ভয়াবহ আকার নেয়। প্রবল জল ও কাদার স্রোতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাসুয়া জেলার টিমুরে, স্যাফ্রুবেশি-সহ নদী সংলগ্ন একাধিক এলাকা।

স্থানীয়দের দাবি, সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ প্রবল গর্জনের শব্দ শোনা যায়। কিছু বোঝার আগেই পাহাড় থেকে জল ও কাদার বিশাল স্রোত নেমে আসে। টিমুরের বাজার এলাকা প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে। বহু বাড়ি ও দোকান ভেসে যাওয়ায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বেশ কয়েকটি সেতু ভেঙে গিয়েছে, কোথাও আবার সেতুর অংশ ভেসে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

রাসুয়া জেলার প্রায় এক ডজন জনপদে ক্ষয়ক্ষতির খবর মিলেছে। রাসুয়া ও নুয়াকোটের মধ্যে একাধিক এলাকায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের সঙ্গে এখনও প্রশাসনের যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি বলে জানা গিয়েছে। ফলে উদ্ধারকাজেও বড় সমস্যা তৈরি হয়েছে।

পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে টিমুরের হেলিপ্যাড ভেসে যাওয়ায়। উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার সেখানে নামতে না পারায় দুর্গম এলাকায় আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

হড়পা বানের জেরে নেপাল-চিন সীমান্তের টিমুরে মোতায়েন থাকা ৯ জন সশস্ত্র পুলিশকর্মী-সহ মোট ৪১ জন নিরাপত্তাকর্মী নিখোঁজ হয়েছেন বলে জানিয়েছে নেপাল প্রশাসন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ওই এলাকার পুলিশ অফিস ও সীমান্তবর্তী কয়েকটি পুলিশ পোস্টও।

তবে এই ভয়াবহ বন্যার কারণ এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, নেপালের রাসুয়ায় ভারী বৃষ্টির কারণে নয়, বরং তিব্বতের দিকে হওয়া ব্যাপক বৃষ্টিপাতের জল আচমকা ভোতেকোশি নদীতে নেমে আসার ফলেই এই হড়পা বান দেখা দিয়েছে। কোনও হিমবাহ-হ্রদ ভেঙে জল নেমে এসেছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আরো পড়ুন:  “ইউনুস নামের আপদ বিদেয়”, খুশি তসলিমা

বিপর্যস্ত এলাকায় সতর্কতা জারি করেছে প্রশাসন। নদীর তীরবর্তী ও নিচু এলাকায় বসবাসকারী মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুর্গম এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হওয়ার পরই মৃত ও নিখোঁজের প্রকৃত সংখ্যা জানা সম্ভব হবে। আপাতত উদ্ধার ও ত্রাণকাজে জোর দিয়েছে নেপাল প্রশাসন।

Author

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Demo Ad
Sponsored Links

Most Popular

Recent Comments