আন্তর্জাতিক রাজনীতির মঞ্চে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। তবে এবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের (USA) অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের (Middle East) অত্যন্ত স্পর্শকাতর এক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়ে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন তিনি। ইরানের (Iran) বর্তমান পরিস্থিতি এবং তেহরানের (Tehran) ক্ষমতার অন্দরমহল নিয়ে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির (Ali Khamenei) পুত্র এবং সম্ভাব্য উত্তরসূরি মোজতবা খামেনির (Mojtaba Khamenei) সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে আগ্রহী। ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক টানাপড়েন চরমে। ওয়াশিংটন (Washington) এবং তেহরানের সম্পর্কের এই বরফ কি তবে এবার গলতে শুরু করবে?
এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে বিশ্বজুড়ে কূটনীতিকদের মনে।ট্রাম্পের এই প্রস্তাবকে বিশ্লেষকরা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন। কারণ, দীর্ঘ দিন ধরে আমেরিকা ইরানকে তাদের অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচনা করে এসেছে। ওবামা জমানায় পরমাণু চুক্তিতে সই করা হোক বা ট্রাম্পের প্রথম শাসনকালে সেই চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসা—দুই দেশের সম্পর্ক সব সময় ছিল সাপে-নেউলে। কিন্তু এবার ক্ষমতার পালাবদলের পরেই ট্রাম্পের এই সুর নরম হওয়ার পেছনে বিশেষ কোনো কৌশল আছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
সূত্রের খবর, ট্রাম্প মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ফেরাতে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে সরাসরি সংলাপের কোনো বিকল্প নেই। তবে মোজতবা খামেনি নিজে এই প্রস্তাব নিয়ে এখনো পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি। ইরান সরকারও বিষয়টি নিয়ে কিছুটা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
তেহরানের বর্তমান শাসন ব্যবস্থা এবং আমেরিকার মধ্যবর্তী আস্থার অভাব যে এখনো কাটেনি, তা বলাই বাহুল্য।রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, ট্রাম্প মূলত ইরানের বর্তমান অস্থিরতাকে কাজে লাগিয়ে একটি নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ তৈরি করতে চাইছেন। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে আমেরিকার প্রভাব বজায় রাখতে ইরানকে একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে আনার চেষ্টা করছেন তিনি।
তবে ইরান কি আমেরিকার এই প্রস্তাবে সাড়া দেবে? নাকি একে ‘কৌশলী ফাঁদ’ হিসেবে দেখবে তেহরান? সেই উত্তর পেতে আমাদের আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।এই আলোচনার কেন্দ্রে থাকা মোজতবা খামেনি ইরানের রাজনীতির পর্দার আড়ালে থাকা এক শক্তিশালী ব্যক্তি। বাবা আলি খামেনির ঘনিষ্ঠ বলয়ে তার গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে বলেই মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
ট্রাম্প যদি সত্যিই তার সঙ্গে আলোচনার পথ প্রশস্ত করতে পারেন, তবে তা হবে বর্তমান ভূ-রাজনীতির ইতিহাসে এক বড় চমক।এখন দেখার বিষয়, হোয়াইট হাউস (White House) থেকে ট্রাম্পের এই বার্তা শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়।
কূটনৈতিক মহলে জল্পনা চলছে, যদি সত্যিই এমন কোনো বৈঠক আয়োজন করা সম্ভব হয়, তবে তা কেবল দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রেই নয়, বরং সারা বিশ্বের অর্থনীতি এবং নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে জ্বালানি তেলের বাজার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার দিক থেকে ইরান-আমেরিকা সম্পর্কের উন্নতি ঘটা অত্যন্ত জরুরি।


Recent Comments