Sushmita Sengupta: মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই বড় ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের উপর পরিকল্পিত সামরিক হামলা আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমেরিকা। ট্রাম্পের দাবি, যুদ্ধের পথে না গিয়ে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতির সমাধান খোঁজার জন্যই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প জানান, ইরানকে আলোচনার জন্য আরও কিছুটা সময় দেওয়া হচ্ছে। তাঁর কথায়, সামরিক পদক্ষেপ সবসময়ই শেষ বিকল্প হওয়া উচিত। যদি আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা কমানো যায়, তাহলে সেটাই সবচেয়ে ভালো পথ।
তবে ট্রাম্পের এই মন্তব্যের কিছুক্ষণের মধ্যেই পাল্টা প্রতিক্রিয়া আসে ইরানের তরফে তেহরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনও সরাসরি কূটনৈতিক আলোচনা চলছে না। পাশাপাশি তারা জানিয়েছে, দেশের সার্বভৌমত্ব এবং নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনও রকম চাপের কাছে তারা মাথা নত করবে না। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। বিভিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে সামরিক হামলার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়ছিল।তবে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ঘোষণার পর আপাতত কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, আলোচনার দরজা খোলা রাখা সবসময়ই ইতিবাচক পদক্ষেপ।তবে সেই আলোচনা বাস্তবে কতটা এগোবে, তা নির্ভর করবে দুই দেশের অবস্থানের উপর।কারণ, অতীতেও একাধিকবার আলোচনা শুরুর ইঙ্গিত মিললেও শেষ পর্যন্ত তা সফল হয়নি।
এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারেও তার প্রভাব পড়েছে। যুদ্ধের আশঙ্কা কিছুটা কমায় অপরিশোধিত তেলের দামে সাময়িক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশও পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। অনেক দেশই চাইছে, নতুন করে কোনও সামরিক সংঘাত শুরু না হয়ে আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান হোক এখন দেখার, ট্রাম্পের এই উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনার পথ খুলে দেয় কি না। যদি আলোচনা এগোয়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থির পরিস্থিতিতে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরতে পারে।তবে আলোচনা ব্যর্থ হলে পরিস্থিতি আবারও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলেই আশঙ্কা আন্তর্জাতিক মহলের।

Recent Comments