অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে তৈরি সেবাশ্রয়ের দু’টি কাঠামো ভেঙে দেওয়ার দাবিতে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতার এক বাসিন্দা। অভিযোগ, ফলতা বিডিও অফিসের পাশের একটি খেলার মাঠের জায়গা দখল করে বেআইনি ভাবে ওই কাঠামো নির্মাণ করা হয়েছিল। বর্তমানে সেবাশ্রয়ের কাজ বন্ধ থাকলেও নির্মাণগুলি এখনও সেখানে রয়েছে। সেই কাঠামো অবিলম্বে সরিয়ে খেলার মাঠটি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে আদালতে।
ফলতার বাসিন্দা আমিনুদ্দিন খান এই মামলা দায়ের করেছেন। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চ মামলাটি দায়ের করার অনুমতি দিয়েছে। চলতি সপ্তাহেই মামলাটির শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
মামলাকারীর দাবি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লোকসভা কেন্দ্র ডায়মন্ড হারবারের বাসিন্দাদের চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার উদ্দেশ্যে গত বছর সেবাশ্রয় প্রকল্প চালু করা হয়েছিল। বিধানসভা ভোটের আগে সেই প্রকল্পের জন্য বিভিন্ন এলাকায় অস্থায়ী কাঠামো তৈরি করা হয়। অভিযোগ, অভিষেকের লোকসভা এলাকার মধ্যে ফলতাতেই সবচেয়ে বড় সেবাশ্রয় কেন্দ্রটি গড়ে তোলা হয়েছিল।
মামলাকারীর বক্তব্য অনুযায়ী, ওই সেবাশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছিল। কিন্তু কেন্দ্রটির জন্য ফলতা বিডিও অফিসের পাশের খেলার মাঠের একটি অংশ ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ। বর্তমানে সেখানে সেবাশ্রয়ের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলেও নির্মিত কাঠামোগুলি এখনও সরানো হয়নি।
আমিনুদ্দিনের অভিযোগ, ওই কাঠামোগুলির কারণে এলাকার বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে সমস্যার মধ্যে রয়েছেন। মাঠটি ব্যবহার করতে না পারায় স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের খেলাধুলাও ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে সেখানে নিয়মিত হওয়া ক্রিকেট ও ফুটবল প্রতিযোগিতা বন্ধ রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। বিভিন্ন সরকারি ও সামাজিক অনুষ্ঠান আয়োজনেও সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলাকারীর দাবি, যে জায়গাটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার সাধারণ মানুষের খেলাধুলা ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের জন্য ব্যবহার করা হত, সেখানে অনুমতি ছাড়াই নির্মাণ করা হয়েছে। তাই বর্তমানে সেবাশ্রয়ের কাজ বন্ধ থাকার পরেও ওই কাঠামো রেখে দেওয়ার কোনও যৌক্তিকতা নেই বলে তাঁর দাবি।
এই পরিস্থিতিতে বিতর্কিত দু’টি কাঠামো ভেঙে ফেলার আবেদন জানিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। আদালত মামলাটি গ্রহণের অনুমতি দেওয়ার পর এখন চলতি সপ্তাহের শুনানির দিকেই নজর রয়েছে। শুনানির পর সেবাশ্রয়ের ওই কাঠামো নিয়ে আদালত কী নির্দেশ দেয়, তা নিয়েই এখন অপেক্ষা।


Recent Comments